নাছিমা খাতুন
জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত সময়কালকে নবজাতক পিরিয়ড ধরা হয়। এ সময়টি নতুন মা এবং নবজাতক উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা আর আদরের মাঝে তার সুস্থ-সুন্দর থাকা নিশ্চিত করতে, নিরাপদ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারণে একজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু মানেই একটি সদ্যজাত শিশুর শূন্য পৃথিবীতে আগমন। কোনো শিশুর অকাল মৃত্যুও সমান বেদনাদায়ক। এজন্যই প্রয়োজন সচেতনতা। এ সময়টি মা ও শিশু উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা আর আদরের মাঝে তার সুস্থ-সুন্দর থাকা নিশ্চিত করতে, নিরাপদ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। শিশুর নাজুক কোমল শরীর খুব সহজেই বিভিন্ন রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া কাঁচা নাভির মাধ্যমে সামান্য অপরিচ্ছন্নতায় ইনফেকশনও হয়ে যেতে পারে। তাই কেবল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ইনফেকশন থেকে দূরে থেকে শিশু মৃত্যুর হার কমতে পারে।
শিশুর পরিচ্ছন্নতা কেবল শিশুর সাথেই জড়িত নয়। এর সাথে মায়ের পরিচ্ছন্নতাও জড়িত। অপরিচ্ছন্ন মায়ের কাছ থেকে রোগজীবাণু শিশুর শরীরেও যেতে পারে। সেজন্য মা ও শিশু উভয়কেই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুর শরীরকে অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে রাখতে চাইলে তার শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। নবজাতককে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে নতুন বাবা-মাকে সাবধান হতে হবে। ছোট শিশু, বিশেষ করে অল্প ওজন নিয়ে বা অকালপ্রসূত শিশুকে ধরা বা খাওয়ানোর আগে সবসময় হাত ধুয়ে নিতে হবে, প্রয়োজনে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। শিশুর জামাকাপড়, কাঁথা-বালিশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নবজাতকের ঘরে যথেষ্ট আলো-হাওয়ার বন্দোবস্ত থাকবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জন্মের পরপর শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এতে সংক্রমণবিরোধী উপাদান থাকে। কোনো অবস্থাতেই তোলা দুধ, বোতল, বাটি-চামচ ইত্যাদি বাইরের জিনিস ব্যবহার করা যাবে না। মায়ের দুধই সবচেয়ে নিরাপদ। বাইরে থেকে এসে পরিষ্কার জামাকাপড় পরে হাত ধুয়ে শিশুকে ধরতে হবে। অতিরিক্ত অতিথি ও লোক সমাগম এড়িয়ে চলা শ্রেয়।
