রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নৌকার প্রার্থীর বিরূদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘণের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:০২

নোয়াখালী জেলার (সোনাইমুড়ী আংশিক- সেনবাগ) দুই আসনের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মাধ্যমে টিআরের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা ও দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করে মনোনয়ন পত্র জমা দেন মোরশেদ আলম। আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে ৪ ডিসেম্বর ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সহ-সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক জানান, তিনি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরনবিধি লঙ্ঘনের মৌখিক অভিযোগ করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের কাছে। তিনি গোপনে তার মালিকানাধিন নির্বাচনী এলাকা-৩ চৌমুহনী বাজারের “মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সে” তফসিল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একাধিক বার সভা করেন।

গত ৩০ নভেম্বর নৌকার প্রার্থী মোরশেদ আলম তার মালিকানাধীন পাশ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা করেন। এছাড়া চলতি মাসের তারিখ তিনি তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের দিয়ে সন্ধ্যায় সেনবাগ বাজারে টিআর (টেস্ট রিলিফ) এর টাকার চেক বিতরণ করান। সভা ও টিআরের টাকা বিতরণের ছবি তুলে এমপি মোরশেদ আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করেন উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: নুরুল হুদা।

সেনবাগ পৌর যুবলীগের আহবায়ক দিদারুল আলম বলেন, গত তিন ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় এমপি মোরশেদ আলমের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা টিআরের টাকা বিতরণ করেন। নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে নির্বাচনের সময় এই টাকা নেতা-কর্মীদের মাঝে বিতরণ করেছেন।

সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার প্রার্থীর সমর্থক মো: নুরুল হুদা টিআরের টাকা বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এজন্য তিনি ছবি সহ নিজের ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন।

সেনবাগ পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অখিল শিকারী জানান, গত ২৫ ও ২৭ তারিখে প্রকল্প সভাপতিদের কাছে টিআরের টাকা দিয়েছেন। তারা মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলণ করেছেন।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ জানান, তফসিল ঘোষণার পূর্বে এমপির নামে কিছু টিআরের টাকা এসেছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, নোয়াখালী-২ আসনের নৌকার প্রার্থীর বিরূদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘণের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালী-২ আসনের (সোনাইমুড়ী আংশিক- সেনবাগ) নৌকার প্রার্থী মোরশেদ আলমের বক্তব্য নিয়ে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইত্তেফাক/এমএএম