শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প থেকে সরে গেল ইতালি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০:৩৮

জি৭ জোটের একমাত্র সদস্য দেশ হিসেবে চীনের অর্থনৈতিক প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) স্বাক্ষর করেছিল ইতালি। চার বছরের বেশি সময় প্রকল্পের সঙ্গে থাকার পর এবার নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে দেশটি। একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়ারে ডেলা সেরা জানিয়েছে, দীর্ঘ-প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তটি তিন দিন আগে বেইজিংকে জানানো হয়েছিল।

সংবাদপত্রটিই প্রথম এই খবর প্রকাশ করেছিল।

কোন পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ইতালি সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে রোমের সরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক সংলাপের চ্যানেলগুলো খোলা রাখার জন্য পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কোনো বিস্তারিত সূত্রটি বলেনি।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধীতা করে আসছিলেন। অনেকের মতে প্রকল্পটি ছিল বেইজিংয়ের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা মাত্র। চুক্তিটি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেহতু বছর না হতেই তারা প্রকল্প থেকে সরে এসেছে তাই আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তিটি নবায়ন হবে না।

তবে মেলোনি ও তার কট্টর-ডান সরকারও আগে থেকেই সতর্ক ছিল। কারণ চুক্তি থকে সরে আসলে দেশটির ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হয়তো বেইজিং প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নিতেও পারে।

তিনি সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে জি২০ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রোম যদি প্রকল্পটি ছেড়ে দেয় তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের আপস করবে না।

দুই ট্রিলিয়ন ডলার

বেইজিং বলেছে, উরুগুয়ে থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ১৫০টির বেশি দেশ এই উদ্যোগে স্বাক্ষর করেছ। প্রকল্পটিকে বিদেশে চীনের প্রভাব বিস্তারের জন্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের একটি নীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বেইজিং বলেছে, তারা বিশ্বজুড়ে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে উচ্চ-গতির রেলপথ ও মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে বিশাল পরিবহন, জ্বালানি ও অবকাঠামোর কাজ এই প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হচ্ছে।

প্রকল্পের সমর্থকরা গ্লোবাল সাউথের সম্পদ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর স্বার্থে এটিকে স্বাগত জানায়। তবে এই প্রকল্পের কারণে গরীব দেশগুলো প্রচুর ঋণে জর্জরিত হয়ে গেছে বলেও অনেকে সমালোচনা করেছেন। এই প্রকল্পের অধীনে চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক উদীয়মান অর্থনীতির দেশে হস্তক্ষপ করার সুযোগ পেয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ, চীন তার সুবিধার জন্য বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাইছে। আর ওয়াশিংটন সতর্ক করে বলেছে, চীন এই উদ্যোগকে বিআরআই বিনিয়োগ রক্ষার নামে বিশ্বজুড়ে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সীমিত প্রভাব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ইতালি উন্নত অর্থনীতির জোট জি৭ ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটি ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কন্তের সরকারের অধীনে বিআরআইতে স্বাক্ষর করেছিল। ২০২২ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মেলোনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিতে লজিস্টিক, অবকাঠামো, আর্থিক ও পরিবেশগত খাতে সহযোগিতার জন্য বিস্তৃত উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত তেমন কিছু ছিল না। চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাবের কারণে ইতালির মিত্রদের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল।

এছাড়াও, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, সদস্যপদের মাধ্যমে আমরা যে ফলাফল আশা করছিলাম তা পাইনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য বড় ইউরোপীয় অর্থনীতি যেমন জার্মানি ও ফ্রান্স বিআরআই-তে যোগ দেয়নি, তবে তা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিগুলো সুরক্ষিত করেছে।

ইত্তেফাক/এসএটি