জিএসই অ্যাওয়ার্ডে চ্যাম্পিয়ন নাজিবা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪০

>> সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

 

গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ডের (জিএসই) বাংলাদেশ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিবা নায়লা ওয়াফা। শিক্ষার্থীদের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করে সেরা নির্বাচন করা হয় এতে। নাজিবা ২০১৯ সালে ম্যাকাওয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জিএসইএ অ্যাওয়ার্ডের গ্লোবাল রাউন্ডে বিভিন্ন দেশের আরও ৫৩ জন বিজয়ীর মাঝে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

নাজিবা নায়লা ওয়াফার সামাজিক উদ্যোগটির নাম ‘রিসার্জেন্স’। তিনি রিসার্জেন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিপণন কর্মকর্তা। কচুরিপানা ব্যবহার করে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করা হচ্ছে এই সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে। আর পিছিয়ে থাকা নারীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে ন্যাপকিন তৈরির কাজটিও করবেন সুবিধাবঞ্চিত নারীরা, এতে তাদের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

গত ২৪ নভেম্বর ঢাকার জিপি হাউসে উদ্যোক্তাদের সংগঠন এন্টারপ্রেনার বাংলাদেশের উদ্যোগে জিএসই অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ২১ জন শিক্ষার্থী তাদের নানা সামাজিক উদ্যোগ ও ভাবনা নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেমিফাইনাল থেকে ৫জন নির্বাচন করা হয়, যারা ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন নাজিবা। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, জিএসইএ চেয়ারম্যান জেরিন মাহমুদ হোসেইন, গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোমিনুল ইসলাম এবং প্রথম আলোর যুব কর্মসূচি সমন্বয়ক মুনির হাসান। নাজিবা নায়লা ওয়াফা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। বাবা-মা ও একবোনকে নিয়ে ছোট পরিবার তার। স্কুল ও কলেজ কেটেছে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখান থেকে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল শেষ করার পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা ও বাস্কেটবল খেলা তার পছন্দের কাজ। এ ছাড়া কয়েকমাস ধরে তিনি রেডিও ঢোল-এর একটি রক শো-তে আরজে হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাজিবা নায়লা ওয়াফা বলেন, ‘এই অ্যাওয়ার্ড আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। আমি ভবিষ্যতে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কাজ করতে চাই। আর রিসার্জেন্স প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে কাজ করা। যেহেতু ভালোলাগা থেকে মার্কেটিংয়ে পড়াশোনা করছি, তাই সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই কাজগুলোকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’