বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

মুশফিকের পাশে বিসিবি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:০০

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা ব্যাটার হিসেবে যাদের গোনা হয় তাদের মধ্যে সবার ওপরেই নাম থাকবে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের। লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চাপিয়ে দেশের হয়ে খেলে যাচ্ছেন প্রায় দেড় যুগ ধরে। এ সময়ের মধ্যে দলের বিভিন্ন অর্জনে রেখেছেন বিশেষ অবদানও। শুধু তাই নয় টাইগার পঞ্চ পাণ্ডবেরও একজন মুশফিক।

তাই বলা চলে টাইগারদের ক্রিকেটের সোনালি যুগের পথ চলার অংশ তিনি। তবে সম্পতি তাকে নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন করেছে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যম। মূলত সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন (৬ ডিসেম্বর) মুশফিক দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হন। আর তারপরই ‘মিরপুর টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের গন্ধ! সন্দেহ সিনিয়র ক্রিকেটারের দিকে!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঐ প্রতিবেদনটি।

তবে সমর্থকদের সমালোচনার তোপে পরে তা কিছু সময় পরেই সরিয়ে নেয় গণমাধ্যমটি। তবে তা নিয়ে চর্চা এখনো চলেই যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত ঐ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মুশফিক। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই বিষয়ে মুশফিকের পাশে আছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

গতকাল মিরপুরে টেস্ট ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুশফিক ইস্যুতে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘মুশফিক নিজ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমরা তো আর যেচে কিছু করতে পারি না। যেহেতু মুশফিক একটা স্টেপ (উকিল নোটিশ প্রেরণ) নিয়েছে, এখন বোর্ড তার সঙ্গে থাকবে।’ তবে এবারই প্রথম নয়। কয়েকদিন পরপরই এমন অসত্য বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এতদিন এসব বিষয়ে চুপ থাকলেও এখন থেকে সোচ্চার থাকবেন বলে জানান তিনি।

এ সময় সব কিছুর একটি সীমা আছে উল্লেখ করে পাপন বলেন, ‘সবকিছুর একটা সীমা রয়েছে। যখন লিমিটটা ক্রস করে যায়, তখন মানুষ বুঝে আসলে এটা সাংবাদিকতা না। আমরা তো ক্রিকেটে অন্তত ওদের (ক্রিকেটারদের) অভিভাবক হিসেবে দাবি করতে পারি। তো দুজনেরই রোল আছে। ভিকটিমের কাজটা ভিকটিম করেছে। ভিকটিম যদি কিছু না করে, তাহলে কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। অন্য খবরগুলোতে আমাদের যদি কিছু না জানায়, তাহলে কিছু করার থাকে না। আমি আজকে এসে শুনেছি, এটা নিয়ে স্টেপ নিয়েছে। এখন যা করণীয়, বিসিবি করবে। কিছু এখন আর পায় না, তাই প্লেয়ারদের ধরছে। তাদের অবস্থান এখন পরিষ্কার।’

এরপর নিজেদের দায় স্বীকার করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সমস্যাটা হয়েছে এখানে একাধিক। আমি শুধু মিডিয়াকে দোষ দিচ্ছি না। আগে একটা সময় আমি আরো অনেক বেশি জড়িত ছিলাম এ সমস্ত ব্যাপারে। এই সাত-আট মাস আমি যখন এটা বন্ধ করেছি, আসলে বিসিবির যোগাযোগটাও বন্ধ হয়ে গেছে। বিসিবি থেকে কেউ কথা বলছে না। একেকজন হয়তো নিজের মত দিচ্ছে, কিন্তু বিসিবিকে প্রতিনিধিত্ব করছে না। আমি কালকে উনাদের সঙ্গে বসে বলেছি কী হলো আপনারা চুপচাপ বসে আছেন কেন। আমি নাই, কাউকে তো বলতে হবে। এটা একটা কারণ। কিন্তু যে কয়টা আমি অনেক দিন ধরে দেখছি, ডাহা মিথ্যা।’

এর আগে অসত্য, বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল ঐ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। সেখানে বলা হয়েছে, উক্ত প্রতিবেদনের কারণে মুশফিকুর রহিম পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে সুনাম ক্ষুণ্নের শিকার হয়েছেন এবং তিনি এই বিকৃত তথ্য সংবলিত প্রতিবেদনের কারণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত সময় পার করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের কারণে মুশফিকের অপূরণীয় সুনামহানি হওয়ার প্রেক্ষিতে ঐ গণমাধ্যমের হেড অব নিউজ, ক্রীড়া সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে কিছু বিষয়ের নিষ্পত্তি চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মুশফিকুর রহিমের পক্ষে নোটিশটি শনিবার ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।  আইনি নোটিশে চারটি বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি চাওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম