সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কতোটুকু ইনফ্লুয়েন্সড হবেন?

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:০৯

ধরুন আপনি কোনো একটা সিনেমা দেখবেন। কিন্তু, প্রতিদিনই তো কতোশতো সিনেমা বা টিভি সিরিজ অনলাইনে-ওটিটিতে রিলিজ হচ্ছে। পছন্দসই কোনো একটা বাছাই করা বেশ দুষ্কর। এইসময়ে ফেসবুক বা ইউটিউবে কোনো একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের মুভি রিভিউ আপনার চোখে পড়লো। এতে করে আপনি সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন। ওই রিভিউয়ে আপনি ইতিবাচক-নেতিবাচক যা শুনেছেন, আপনার মস্তিষ্কও খানিকটা সেভাবেই গ্রহণ করবে সিনেমাটি। কোনো খুঁত থাকলে সেটি বারবার আপনার নজরে আসবে, হয়তো যা না জানলে আপনি মাথা ঘামাতেন না। একই ঘটনা খাবারের ক্ষেত্রেও। অতিসাধারণ কোনো দোকানের খাবারের স্বাদ আপনার কাছে ভিন্ন মনে হতে পারে ফুড ভ্লগারদের ‘আহা-উহু’ শোনার পর। এটিই আসলে 'ইনফ্লুয়েন্সড' হওয়া বা প্রভাবিত হওয়া। এই ধরনের প্রভাব খুব সাধারণ জিনিসকে ভিন্ন করে তোলে।

'ইনফ্লুয়েন্সার' শব্দটি আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আমাদের কাছে ভীষণ পরিচিত। কিন্তু এই ইনফ্লুয়েন্সার আসলে কারা? আমরা প্রতিদিন যাদের 'ফলো' করি, বা যাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে 'লাইক' বা 'লাভ রিয়্যাক্ট' করি, তারাই? সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও কি কেউ ইনফ্লুয়েন্সার হতে পারে?

এখনকার সময়ে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কারোর 'ইনফ্লুয়েন্সার' পরিচয় নির্ধারণ করি, যেমন আকর্ষণীয় চেহারা বা বাচনভঙ্গি, নির্দিষ্টসংখ্যক ফলোয়ার থাকা, নিয়মিত ব্লগ বা ভ্লগিংয়ের অ্যাকটিভিটি; পাশাপাশি প্রতিটি স্ট্যাটাস ও পোস্টে অন্তত হাজারের বেশি রিয়্যাকশন থাকা প্রয়োজন। এই বিবেচনায় আমাদের চারপাশে এখন অনেকেই আমাদের প্রভাবিত করছে। কে কি খাচ্ছে, কোন ধরনের পোশাক পরছে, কোন ব্র্যান্ডের প্রসাধনীসামগ্রী ব্যবহার করছে, তা আমরা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।

খেয়াল করে দেখুন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রুচি, স্বাদ, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া। আর দিন দিন যেহেতু এর ব্যবহারকারী বাড়ছে, তাই অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের শেকল হয়ে উঠছে আরও মজবুত। আবার ইদানীং ইনফ্লুয়েন্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। আপনি যেধরনের প্রোডাক্ট বা কন্টেন্ট পছন্দ করেন এবং নিয়মিত সার্চ করেন, এআই সেটিই বারবার আপনার সামনে নিয়ে আসবে। এতে আপনার চিন্তাভাবনাও একটা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ বিলিয়ন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই এখন এই ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করে। সে তুলনায় বড় অঙ্কের ফলোয়ারধারী ব্যবহারকারী খুব বেশি নয়। কিন্তু তারাই প্রভাবিত করছে বাকিদের।

কিছুদিন আগে খেয়াল করলাম, প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন শর্ট ভিডিও বা 'রিল' দেখতে দেখতে চোখের পলকে কেটে যাচ্ছে ৫-৬ ঘণ্টা। এরমাঝে নানারকম জিনিসে ইনফ্লুয়েন্সড হচ্ছি; আবার প্রায়ই আসল কাজের কথা ভুলে যাচ্ছি। স্মৃতিশক্তিরও বিভ্রম ঘটছে। স্মার্টফোনের 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং' সেটিংসের হিসাব অনুযায়ী দেখলাম, একমাসে শুধুমাত্র ফেসবুক স্ক্রল করেই ব্যয় করেছি অন্তত ১০০ ঘণ্টার বেশি। বাস্তবে এই সময়টা আমার কোনো কাজে আসেনি, কেবল অলসতায় ভোগা ছাড়া।

অথচ অযথা উশখুশ না করে এই সময়টায় কোনো ভালো বই পড়া যেতো, আরও বেশি লেখালেখি করা যেতো, কিংবা যে কাজগুলো করছি সেখানে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া যেতো। অনেক ভেবে একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করলাম। মনে হলো, প্রচলিত ধরনের স্মার্টফোনের পরিবর্তে একটা বাটন ফোন ব্যবহারে ফিরে গেলে ভালো হয়, যদিও এতে কিছু স্মার্ট ফিচার থাকবে। হোয়াটস্যাপ-সহ যোগাযোগের কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু ছোট স্ক্রিনে 'রিল' বা 'কন্টেন্ট' দেখতে ব্যস্ত থেকে সময় নষ্ট হবে না। খুঁজে পেলাম তেমন ফোন। জানলাম, অনেকেই এখন এমন ফোন ব্যবহার শুরু করছেন। অল্পদিনেই নিজের পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম, কারণ এখন কোনো বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার জগত আগের চেয়ে প্রসারিত হতে শুরু করেছে। বলা যেতে পারে, ডিটক্স মেথড কাজ করেছে! এইধরনের কোনো পদ্ধতি হয়তো আপনাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।

ইত্তেফাক/এসটিএম