ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে শনিবার বাংলাদেশের দেওয়া ১৩৭ রানে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায়ই ছিটকে যায় সফরকারীরা। তবে সপ্তম উইকেটে কিউই অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস এবং মিচেল স্যান্টনারের ৭০ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ সমতায় শেষ করে নিউজিল্যান্ড। এরপর ম্যাচ শেষে তাকে উইকেটে সঙ্গ দেওয়া ফিলিপসের প্রশংসায় মাতেন কিউদের জয়ের নায়ক ফিলিপস।
গত পরশু ম্যাচ শেষে ফিলিপস বলেন, ‘বাংলাদেশ তখন সত্যিই খুব ভালো বোলিং করছিল। এরপর আমরা চা-বিরতিতে যাই সেখানে আমরা এই ম্যাচে কী করা যায় সেই বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এই উইকেটে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে আলাপ করেছিলাম। সে সময় আমি তাকে আমার পরিকল্পনায় যুক্ত করি। তাকে বলে দেই বল বেশি সম্ভব লেগ-সাইডে খেলার চেষ্টা করা এবং দেখেশুনে হাত ও ব্যাটে বল লাগানোর বিষয়ে সাবধান করে দেই। আর এই পরিকল্পনা তার বেশ পছন্দ হয়। চা-বিরতি থেকে ফেরার পর সে যেভাবে ব্যাটিং করছে তা ছিল অবিশ্বাস্য। তার খেলার ধরনে আমার নিজের ওপর থেকে চাপ সরে যায়।’
ঢাকা টেস্টে যেখানে ব্যাটাররা উইকেটে থিতু হতেই হিমশিম খাচ্ছিল সেখানে মারমুখী ছিলেন ফিলিপস। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৭২ বলে ৮৭ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮ বলে ৪০ রানের এক হার না মানা ইনিংস খেলে স্বাগতিকদের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে আনেন তিনি।
এই উইকেটে কীভাবে নিজেকে স্থির রেখেছে এই বিষয়ে ফিলিপস বলেন, ‘আমি মনে করি দিন শেষে, আমি আমার পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। এটি প্রথম ইনিংসে কাজ করেছিল। আমরা প্রথম ম্যাচ থেকেও সামঞ্জস্য রেখেছিলাম, তাই এটি আমার প্রক্রিয়াগুলো শান্ত এবং পরিষ্কার রেখেছিল। ইনিংসের শুরু থেকে বোলাররা আমার উইকেট নেওয়ার জন্য দুর্দান্ত আক্রমণ করে যাচ্ছিল তবে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। আর সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় খেলার চেষ্টা করেছি। এবং আমি মনে করি সেটা আমি করতে পেরেছি।’
এর আগে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ রানে এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। যা বাংলাদেশের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে কিনা। এমন প্রশ্নের প্রতিউত্তরে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘টস জেতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরপর প্রথম ইনিংসের স্কোর বোর্ডে ভালো রান তুলে বেশ চাপের মুখেই ফেলেছিল আমাদের। তবে এই ৮ রান অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করছে। এটি আমাদের ছেলেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
সেই সঙ্গে ফিলিপস বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলে সত্যিই ভালো ছিল। কেউ স্কিডিং, কেউ স্পিনিং করেছে। এটা আমাদের ব্যাটারদের জন্য কঠিন ছিল। বল পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা একটু অনুমানযোগ্য হয়ে ওঠে। আর সেই সুযোগটাই আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে নেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি।’
এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টে বল হাতে ৮ উইকেট শিকার করেন ফিলিপস। নিজের বোলিং নিয়ে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘অনেক ওভার বোলিং করা আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। পাশাপাশি কয়েকটি উইকেটও নিতে পারব। আমি যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি তা ফলপ্রসূ হয়েছে। আমার পিছনে অভিজ্ঞতা নেই জেনেও টিমি (সাউদি) আমার হাতে ভরসা রেখে বল তুলে দিয়েছিল, সৌভাগ্যবশত এখানে স্পিনবান্ধব উইকেট ছিল।’
