মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

গুদামভর্তি পেঁয়াজ, তবুও দাম চড়া

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ২১:২২

রাজশাহী জেলায় এবার চাহিদার ১৩ গুণ বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার, উন্নত জাতের বীজ ও নগদ অর্থ প্রদান করায় এবার বেড়েছে পেঁয়াজের আবাদ। এর ফলে বাড়বে পেঁয়াজের গড় উৎপাদন।
 
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের গুদামে শতশত বস্তা পুরাতন পেঁয়াজ ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এসব পেঁয়াজ বিক্রি না করে গুদামে মজুদ করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এসব পেঁয়াজ বিক্রির জন্য আমদানি করে গুদামে রেখেছেন।
       
রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিন মৌসুমে রাজশাহীতে ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত জমি থেকে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে তাহেরপুরী জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ ৭ হাজার ৬০০ হেক্টোর জমি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, তাহেরপুরী জাতের চারা পেঁয়াজ ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন এবং গ্রীস্মকালীন নাসিক এন-৫৩ জাতের ১ হাজার ৩০০ হেক্টোর জমিতে ৩৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন জানান, বর্তমানে মুড়িকাটা ও নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠছে। রাজশাহীতে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। এর মধ্যে দুই দিনেই রাজশাহীর কৃষকরা প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে বাজারে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পেঁয়াজ তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন। দুই-একদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজে বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। এর ফলে পেঁয়াজের দামও কমবে। 

তিনি আরও জানান, একদিনের ব্যবধানে যেমন পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়েছিল, তেমনি একদিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক কমেছে। তিনি বলেন, রোববার রাজশাহীর খুচরা বাজারে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দামে। একদিনের ব্যবধানে সোমবার একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দামে।

তিনি জানান, রাজশাহীতে মে মাসে বাজারে উঠে তাহেরপুরী জাতের চারা পেঁয়াজ। এটি দেশি পেঁয়াজ। রাজশাহীতে এই পেঁয়াজ উৎপাদনই হয় ২ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এই পেঁয়াজকে আবার বীজ হিসেবেও লাগানো যায়। ওই বীজ থেকে যে পেঁয়াজ হয় তাকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ হিসেবে পরিচিত। যা বর্তমানে বাজারে আসছে। এর উৎপাদন হয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীর প্রায় ৩০ লাখ মানুষের দৈনিক ৩০ গ্রাম করে পেঁয়াজের চাহিদা ধরা হয়। এতে জেলায় দৈনিক পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৯০ মেট্রিক টন। সারা বছর রাজশাহীতে পেঁয়াজের চাহিদা ৩২ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন। এই জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন হয় প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এই পরিমান রাজশাহী জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি।

কৃষি কর্মকর্তা মোজদার হোসেন জানান, জেলায় উদ্বৃত্ত থাকে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। রাজশাহীর সারা বছরের চাহিদা মিটিয়ে এই পেঁয়াজ আমরা দেশের ১৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে একদিন খাওয়াতে পারব।

পেঁয়াজের বাজারে অভিযান

অন্যদিকে রাজশাহীতে পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সোমবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার কাঁচাবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলেন, অভিযানকালে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে দুইজনকে ৫০০ টাকা করে এক হাজার এবং অপরজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের অতিরিক্ত লাভ না করে দাম সহনিয় পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। 

ইত্তেফাক/পিও