>> অনিক চৌধুরী তপু
অসংখ্য প্রতিবন্ধকতার মাঝেও নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সফল এক শিক্ষার্থী আঁখি পাল চৌধুরী। মেডিক্যাল কিংবা প্রথম সারির কোনো বিশ্ববদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার বিষণ্নতা কিংবা ফাইনাল পরীক্ষার আগের অসুস্থতা কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার লক্ষ্য অর্জনের পথে।
২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে বিএসসি এজি (সম্মান)-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল’ এবং একই মাসের ২৫ তারিখ কৃষি অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫’ পেয়েছেন আঁখি।
আঁখির এই সাফল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বছরটা আমার জীবনের সেরা বছর। বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় উনার আক্ষেপ ছিল উনার কোনো মেয়েই পড়াশোনায় ভালো। কিন্তু উনি আমার ব্যাপারে সবসময়ই আশাবাদী ছিলেন। তবে বাবা আমার এই সফলতা নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি।’ চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আঁখি। আর সংগত কারণেই তিনি ছিলেন বাবার সবচেয়ে আদুরে মেয়ে। ২০০৭ সালে জামালগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ এবং পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন সিলেট সরকারি মহিলা উচ্চবিদ্যালয়ে। ইচ্ছে ছিল উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সরকারি মেডিক্যালে অধ্যয়ন করার ইচ্ছে থাকলেও তা আর পূরণ আর হয়নি। এক বছর গ্যাপ দিয়ে পরবর্তীতে ভর্তি হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকে নিজেকে কোনোভাবেই খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলেন না আঁখি। বন্ধুবান্ধবী সবাই মেডিক্যাল ও প্রথম সারির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ায় এই নিয়ে অনুশোচনাবোধ কাজ করত নিজের মধ্যে। সেসময় নিজেকে অন্যদের থেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর সেই অনুশোচনাবোধ কাটিয়ে শুরু করলেন কঠোর পরিশ্রম। নিয়মিত ক্লাস করতেন। ক্লাসের পড়া শেষ করে রাখতেন। প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাতেই পেলেন সাফল্য। ৩.৯৭ জিপিএ পেয়ে প্রথম হলেন। তারপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি তার এ সফলতার কারণ মনে করেন কঠোর পরিশ্রম ও সেই সাথে সাথে মা বাবার আশীর্বাদ ও অনুপ্রেরণা।
