পেশাগত ডেন্টিস্ট হয়েও সফল উদ্যোক্তা বিনতে নাঈম

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৫৫

পোশাক, সাজগোজ, কার না পছন্দ, নারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে নিত্য নতুন পোশাক, পোশাক ফুটিয়ে তোলে একজন মানুষের ব্যাক্তিত্ব। হোক সে ব্রিটেনের রানী বা কোন সাধারণ জনগণ, সুন্দর পোশাক চাই ই চাই। পোশাকের বিভিন্নতা মানুষকে আকৃষ্ট করে, প্রশংসনীয় করে তোলে।

বাংলাদেশও এগিয়ে চলছে সমান গতিতে। বাংলাদেশ বর্তমানে পোশাক নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তাদের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এখন ফেসবুক খুললেই দেখা যায় অনলাইন প্লার্টফর্মকে হাতিয়ার করে নিজেদের স্বাবলম্বী করেছে হাজার হাজার নারী, কেইবা শখের বসে, কেউবা জীবনের তাগিদে। তেমনই একজন উদ্যোক্তা নিয়ে RBD.Reliance-রিলায়েন্স শপের প্রতিষ্ঠাতা বিনতে নাঈম। 

পোশাক এবং পোশাকের সাথে মানান সই সাজ একটি গুন। সাজ পোশাক যখন মানানসই হবে তখনই তো আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। প্রতিটি নারীর মতো তারও সাজগোজ নিয়ে ঝোক ছিলো। পোশাক নির্বাচনে ছিলেন বিচক্ষণ, আর সেই বিচক্ষণতার ছাপ যখন তার পোশাকে পড়ত তখনই তার শিক্ষক থেকে শুরু করে কলিগ সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন। একজন পেশাগত ডেন্টিস্ট হয়েও তখনই চিন্তা আসে পোশাক নিয়ে কাজ করার। প্রথমে যে কেউ শুনলেই অবাক হবেন, ডেন্টিস্ট হয়েও কীভবে ব্যবসা সামলান, কিন্তু যারা সফল যারা দেশ ও জাতির কথা চিন্তা করে তারা এভাবেই সবটা সামলে নিয়ে এগিয়ে চলে। 

প্রথমে পেজের মাধ্যমে বড়দের থ্রিপিস নিয়ে কাজ শুরু করেন। মজার ব্যাপার বিনতে নাঈম যে প্রডাকশন হাউজের পোশাক পড়তেন, সেই প্রডাকশন হাউজের সাথেই তিনি কাজ করছেন। একটি বিজনেসের মুল লক্ষ্য থাকে ভোক্তার কাছে পণ্যটি পৌছে দেওয়া। সেক্ষেত্রে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়, যার মধ্যে পোশাকের দাম একটি বিষয়,কিন্তু রিলায়েন্স শপ চেষ্টা করে সাধ্যের মধ্যে সবটুকু দেওয়ার। সাধ ও সাধ্যের সাথে মিল রেখের প্রতিনিয়ত তারা সাজাচ্ছেন লাখো নারীদের। মেয়েদের নানা ধরনের পোশাক বিক্রির মাধ্যমে তারা সহজেই মানুষের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

মেয়েদের কামিজ, টু পিস, থ্রি পিস, কুর্তি, ওয়েস্টার্ন, শাড়ী সহ নানা ধরনের ক্লথিং পাওয়া যায় এখানে। এখানের প্রত্যেকটা ক্লথিং এর নানা ধরণের বৈচিত্র্য রয়েছে। কুর্তির ভিতর রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, আনারকলি সহ নানাকিছু। দেশিয় কাপড়কে প্রাধান্য দেয়া হলেও কাপড়ের মধ্যে রয়েছে নানা বৈচিত্র; এমব্রয়ডারি কটন, সিল্ক, স্লাব কটন, এপলিক প্রিন্ট কটন সহ বুটিক্সের পোশাক নিয়ে আসেন তারা।

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কেমন প্রতিকুলতা ছিল? এ প্রশ্নের জবাবে বলে, তিনি প্রতিকুলতাকেই চ্যালেন্জ হিসেবে নিয়েছেন এবং অদম্য ইচ্ছেশক্তি দ্বারা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেছেন। কারণ প্রতিকুলতা সবজায়গায়ই আসবে, কিন্তু সফল হতে হলে প্রতিকুলাতাকেই হাতিয়ার বানিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিদেশি পোশাকের প্রতি বর্তমানে নারীদের একটা বিশেষ ঝোক দেখা যায়, নারীরা দেশীয় পোশা থেকে দিন দিন দুরে সরে যাচ্ছে। পোশাক একটি স্বাধীনতা, তারপরও নিজ সংস্কৃতিকে বাচাতে হলে দেশীয় পোশাকের জুরি নেই। তার ইচ্ছে বাংলাদেশের নারীদের বিদেশি পোশাকের ঝোক থেকে ফিরিয়ে এনে দেশী পোশাকের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। ব্যাপারটা কিন্তু মন্দ নয়, দেশী শাড়ীতে দেশী নারী যাকে বলে। 

তাছাড়া RBD.Reliance - রিলায়েন্স এখন কিছু মানুষের কর্মস্হল, মানুষকে সাবলম্বী হতেও সাহায্য করছে। এদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং খেটে খাওয়া মানুষের কর্মংস্থানের ব্যবস্থা করেছে তার এই রিলায়েন্স শপ। যার জন্য ইতোমধ্যে ন্যাশনাল পুরষ্কার ও পেয়েছেন। বড় স্বপ্নের শুরুটা এভাবেই হয়।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই তাই  কারো কথায় কান না দিয়ে নিজস্ব উদ্যোমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। নারীদের যেহেতু এখনও আড়চোখে দেখা হয় তাই নিজেকে প্রতিষ্ঠত করতে হলে হাল ধরতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করার পরিসর বাড়াতে হবে। 

নিজের উদ্যোগকে ভবিষ্যৎতে কোথায় দেখতে চান এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন বিনতে নাঈম বলেন,কোম কিছুর বাজার সৃষ্টি করা প্রথমে কঠিন কাজ, আরবিডি রিলায়েন্সকে তিনি শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না, বাংলাদেশের পন্যকে বিশ্বমানের পণ্যের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান, যাতে সবাই পোশাকের ট্যাগে মেইড বাংলাদেশ লেখাটি দেখতে পারে, যা বাঙালি হিসেবে গর্বের।

ইত্তেফাক/এএইচপি