‘ঠিকমতো নির্মাণ করলে দেশের যেকোনো সিনেমা জনপ্রিয় হবে’

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২০:৪১

অমিতাভ রেজা চৌধুরী। এদেশের একজন জনপ্রিয় নির্মাতা। বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে ক্যারিয়ারে বয়সটা অনেক হলেও সিনেমা নির্মাণ করেছেন একটি। আর তাতেই নিজের মুন্সািয়ানার পরিচয় দিছেন তিনি। এখন নতুন সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। নিজের সার্বিক ব্যস্ততা ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি প্রসঙ্গে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। লিখেছেন

মোস্তাফিজ মিঠু

এখনকার সিনেমার বাজারে প্রযোজক পাওয়াটা বড় সমস্যা। একজন পরিচালক হিসেবে আপনি কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে?

পুরো বিশ্বেই সিনেমা তো একটা ব্যবসা। এখানে প্রচুর লগ্নি করা হয়। যেকোনো ব্যবসার মুনাফার জায়াগাটা যখন নিশ্চিত না থাকে, সেক্ষেত্রে প্রযোজক পাওয়াটা সমস্যা। আমাদের দেশেও এক সমস্যা। মুনাফাটা আসলে কিভাবে আসবে সেটা নিশ্চিত না। তবে সিনেমা যদি ভালো হয় সেক্ষেত্রে মুনাফা উঠে আসার উপায় চেষ্টা করলে বের করা যায়। কিন্তু ভালো সিনেমাই তো হচ্ছে না।

 

মুনাফার জায়গা নিশ্চিত না থাকার কারণ কী?

আসলে আমাদের প্লাটফর্ম ঠিক নেই। সিনেমাগুলো দেখার জন্য তো দর্শকদের একটা জায়গা যেতে হবে। কিন্তু আমাদের সিনেমা হলের সংকট। অন্যান্য প্লাটফর্মগুলো এখনো শক্তিশালী হয়ে উঠেনি। এগুলো আমার কাছে বড় কারণ মনে হয়।

 

তাহলে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের কী করণীয় রয়েছে মনে করেন?

সিনেমাকে সরকার সিরিয়াসলি নিলে তো অবশ্যই করা উচিত। প্রতি বছর আমাদের ৫টি সিনেমা অনুদান দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ৫টা সিনেমাও তো আমরা দেখতে পারি না ঠিক মতো।

 

‘আয়নাবাজি’ পর ‘রিকশা গার্ল’ নির্মাণে মাঝে অনেকটা সময় পার করলেন, এর কারণ?

আসলে সিনেমা বানানোর জন্য তো আর সিনেমা বানাতে চাই না। আমি কোন গল্পটা বলতে চাই সেটা নিয়ে এগুনোর তো একটা সময় লাগে। তাই সবকিছু মিলিয়ে অল্প সময়ে মধ্যে হয়ে উঠেনি।

 

সিনেমা ব্যবসা করতে হলে সেখানে বানিজ্যিক এলিমেন্ট থাকতে হবে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত ধারণা এটি। আপনি এর ব্যাখ্যা কিভাবে দিবেন?

প্রতিটি সিনেমারই নিজস্ব বাজার আছে। ধরেন আমি অ্যানিমেশন সিনেমা বানাই। তার একটা নিজস্ব বাজার আছে। কেউ যদি বানিজ্যিক এলিমেন্ট দিয়ে সিনেমা বানান, তারও একটা নিজস্ব বাজার আছে। প্রতিটি ঘরণার একটি নিজস্ব বাজার আছে। সবারই বাজার নির্ধারণ করা এবং তারা তাদের বাজারের জন্য সিনেমা বানান।

 

‘আয়নাবাজি’ সিনেমাটি বাংলা সিনেমা বাজারে উল্লেখযোগ্য একটি ব্যবসা সফল সিনেমা। এই ঘরণার সিনেমা কি তাহলে জনপ্রিয় হবে?

ঠিকমতো নির্মাণ করলে দেশের যেকোনো সিনেমা জনপ্রিয় হবে। এখনো তো সিনেমা হল রয়েছে। যেখানে দর্শকরা সিনেমা দেখতে যান। মানুষ তো শুধু আর্ট বুঝতে সিনেমা দেখতে যায় না। বিনোদনের জন্যই মূলত যায়। ভালো সিনেমা হলে সেটা দর্শক দেখতে যাবেন। আর না হলে সেই সময়টা তারা অন্যান্য কাজ করবেন।