আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাহাদের অবদান সুবিদিত

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৫

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনাইয়া আসিতেছে, ততই বাড়িতেছে বিভিন্ন রকমের নাশকতা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইত্তেফাককে জানাইয়াছেন যে, নাশকতা ঠেকাইতে পুলিশের পক্ষ হইতে সকল ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হইয়াছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হইবে না। কঠোর হস্তে তাহাদের নিয়ন্ত্রণ করা হইবে। র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেনও অনুরূপ কড়া বক্তব্য প্রদান করিয়া বলিয়াছেন, নাশকতা-সহিংসতাসহ সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাইতে র্যাব সদা তৎপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টোকাই, মাদকাসক্ত ও বেকার তরুণদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করিয়া গাড়িতে আগুন দেওয়া হইতেছে। ঘড়ি, পেট্রোল ও ব্যাটারিসমেত ‘টাইম ইনেশিয়েটেড আইইডি’ ব্যবহার করিয়া অগ্নিসংযোগ করা হইতেছে গাড়িতে। যেই দেশে সামান্য অর্থের বিনিময়ে ঠান্ডা মাথার খুনিদেরও ভাড়া পাওয়া যায়, সেইখানে কয়েক হাজার টাকা দিয়া নাশকতা সৃষ্টিকারীদের উসকাইয়া দেওয়া অসম্ভব নহে। তাহা ছাড়া যেই সমাজে অপরাধকারীরা অপরাধ সংঘটিত করিয়াও নিরাপদে পার পাইয়া যায়, সেইখানে খুঁটি ও অর্থের জোরে তাহারা কী করিতে পারে, সেই সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত ও অবহিত।

যখন কোনো জনপদে আইনের শাসন ব্যাহত হয়, বিচারব্যবস্থায় তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা, তখন এই ধরনের অপরাধীরা মাথা চাড়া দিয়া উঠে। আলোচ্য দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তিও যে বিষয়টি অবগত নন, এমনটি বলিবার কোনো অবকাশ নাই। তাহারা তাহাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করিয়া যাইতেছেন; কিন্তু তাহার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাহারা যে অসহায় হইয়া পড়েন, তাহা সহজেই অনুমেয়। কেননা, ক্ষুদ্র আয়তনের একটি দেশে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের জন্য যেই ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট তাহাদের থাকা দরকার, তাহা বলিতে গেলে আমরা এখনো সরবরাহ করিতে পারি নাই। গত দেড় দশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়াছে নিঃসন্দেহে। তবে এখনো কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাহাদের সীমাবদ্ধতা রহিয়া গিয়াছে। ইহার মধ্যেও তাহারা যেইভাবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সহিত তাহাদের দায়িত্ব পালন করিয়া চলিয়াছেন, তাহা প্রশংসনীয়। তাহাদের তত্পরতার কারণে দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ততটা বিস্তৃতি লাভ করিতে পারে নাই। আল্লাহ তাআলার অসীম রহমতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে। ইহাতে উপরিউক্ত দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ভূমিকা ও অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষত রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশানুরূপভাবে নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে। তাহার পরও আমাদের মনে রাখা উচিত, ঢাকাই সমগ্র দেশ নহে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত ভোটার ও জনগণের নিরাপত্তা লইয়া গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করিতে হইবে।

সম্প্রতি গাজীপুরে দুর্বৃত্তরা অক্সি-অ্যাসিটিলিন ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করিয়া রেললাইন কাটিয়া ফেলিলে একটি ট্রেনের একজন যাত্রী নিহত ও ট্রেনচালকসহ অর্ধশত যাত্রী আহত হন। গতকালের অনলাইন খবর অনুযায়ী নীলফামারীর ডোমারে খুলিয়া ফেলা হইয়াছে রেললাইনের ৭২টি ফিশপ্লেট। রেলওয়ে নাশকতার পাশাপাশি বাস-ট্রাক প্রভৃতি যানবাহনে অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা তো ঘটিয়াই চলিয়াছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৮ অক্টোবর হইতে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৬ দিনে মোট ২৭৮টি যানবাহন ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হইয়াছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিক্ষেপ করা হইতেছে ককটেল। এমনকি খুলনার পাইকগাছায় আদালতের এজলাসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়াছে। এই সকল নাশকতার ঘটনা উদ্বেগজনক। ইহার অবসানে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। আমাদের আধাসামন্তবাদী সমাজব্যবস্থায় কীভাবে অপরাধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাহাও এখানে বিবেচ্য বিষয়। বিশেষত গ্রাম-গঞ্জে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হইল উঠতি প্রভাবশালী মহল। ফলে সকলের চোখের সম্মুখে ও নাকের ডগায় মাস্তান-অপরাধীদের অভয়ারণ্য তৈরি হইলেও তাহার সুরাহা হয় না। এই ব্যাপারে পুলিশের আইজিপি ও র্যাব মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজর দিবেন বলিয়া আমরা আশা রাখি।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন