দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে বিজয় লাভ করি। সেই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বর মাস এলেই মাস জুড়ে আমরা বিজয়ের কেতন ওড়াই। লাল-সবুজের পতাকা দেখে পুলকিত হই। সারা দেশে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। হিমশীতল রক্তে অগ্নিশীখা বইয়ে দেওয়ার মাস। নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয়ের মাস আরো রোমাঞ্চকর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, ডিসেম্বরে স্কুল ছুটি থাকে। নানা রকম হই-হুল্লোড়, খেলাধুলা ও পিঠাপুলির উত্সব উপভোগ করতে করতেই চলে আসে ১৬ই ডিসেম্বর।
শহরের তুলনায় গ্রামবাংলায় একটু ভিন্নভাবে বিজয় দিবস পালিত হয়ে থাকে। গ্রামগঞ্জে বিজয় দিবস আরম্ভ হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে। এরপর আরম্ভ হয়ে যায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও গীতাপাঠ। নানা রকম খেলাধুলার মাধ্যমেও বিজয় দিবস পালিত হয়ে থাকে। দিন শেষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিচারণ করে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় বিজয় দিবসের দিনটি। এইতো গেল গ্রামগঞ্জের বিজয় দিবস উদ্যাপনের চিত্র। শহুরে নতুন প্রজন্মের বিজয় দিবস উদ্যাপনের চিত্র একটু ভিন্ন।
শহরে নতুন প্রজন্মের মেধা-মননে পাশ্চাত্য চিন্তাভাবনা একটু বেশি দেখা যায়। এখানকার নতুন প্রজন্ম কিছুটা উদাসীন নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে বিকৃত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে অনলাইন ভিডিও থেকে শিক্ষা না নিয়ে বেশি বেশি বই পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে সহায়তা করবে এমন কিছু বইয়ের নাম হলো :১. বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র (১-১৫ খণ্ড)—হাসান হাফিজুর রহমান। ২. আমি বিজয় দেখেছি—এম আর আখতার মুকুল। ৩. মা—আনিসুল হক। ৪. একাত্তরের দিনগুলি—জাহানারা ইমাম। এগুলো ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত লেখকের বই থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। বই পড়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যেন কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তাদের মেধা-মাননে, হূদয়ে-রক্তে দেশ, সার্বভৌমত্ব ও বিজয়ের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করতে না পারে।
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
