ভারতের হতাশা ছুঁয়েছে বাংলাদেশকে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩২

শামীম হামিদ, বার্মিংহাম (ইংল্যান্ড) থেকে

সকালে হ্যাগলি রোডের হোটেল থেকে এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যাওয়ার পথে কথা হলো বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক জুলহাসের সঙ্গে। জুলহাস খুব আশায় ছিলেন ভারতের কাছে ইংল্যান্ড হারবে। আর তেমনটা হলে লাভ হতো বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার রেসে বাংলাদেশ টিকে থাকত দাপটের সঙ্গেই। কিন্তু ইংল্যান্ড জিতে যাওয়ায় কাজটা আরো কঠিন হয়ে গেল।

জুলহাসের মতো মন খারাপ বার্মিংহাম প্রবাসী অনেক বাংলাদেশির। আর হবে নাইবা কেন? ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটা তাদের দুই দেশের জন্য তো বটেই, এর পাশাপাশি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের জন্য। ওই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো বাংলাদেশ। তাকিয়ে ছিলেন দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশও। গত রবিবার টিম হোটেলের সামনে ওয়ালশ ঐ কথাটাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলছিলেন। জুলহাস বলেন, ‘ইংল্যান্ডের কাছে ভারত এভাবে হেরে যাবে ভাবতে পারিনি। এই পরাজয়ে আরো একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। নাগাল থেকে আরো দূরে সরে গেল শেষ চারের স্বপ্ন।’

তবে পয়েন্ট টেবিলের সর্বশেষ সমীকরণ বলছে, আশার প্রদীপ এখনো পুরোপুরি নিভে যায়নি। রবিন লিগের শেষ পর্যায়ে এমন জটিল অবস্থার মধ্যেও শেষ চারের দৌড়ে টিকে রয়েছে বাংলাদেশ। বাস্তবতার নিরিখে স্বপ্নপূরণ হয়তো কঠিন। তবে গণিতের হিসাবে একেবারে অসম্ভবও নয়। কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করবে মাশরাফিরা? এর জন্য বাংলাদেশের প্রথম চ্যালেঞ্জ ভারত ও পাকিস্তানকে হারানো। এর পাশাপাশি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ টাইগারদের জন্য। তাই ভাগ্যের ওপরও অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

পয়েন্ট টেবিলের সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। বাংলাদেশ ৬-এ রয়েছে ৭ পয়েন্ট নিয়ে। পাকিস্তানের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

তাহলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাটা কোথায়? বাংলাদেশ যদি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে জেতে, তাহলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ১১। তখন বাংলাদেশ, ভারত ও নিউজিল্যান্ড এই তিন দেশের পয়েন্টই সমান হয়ে যাবে। তবে দুই ম্যাচ জেতাই শেষ কথা নয়। এরপর বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের দিকে। ওই ম্যাচে যেই জিতুক, তার সেমিফাইনালও নিশ্চিত। তবে বাংলাদেশের সুবিধা হবে ইংল্যান্ড হারলে। এছাড়া ভারতের আরো দুটি ম্যাচ রয়েছে, যার মধ্যে একটিতে জিতলেই তাদের চলে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি এই বিশ্বকাপে একাধিকবার ভাগ্যের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু ভালো খেললেই হয় না। ভাগ্যের সহায়তাও লাগে। অধিনায়কের মুখ থেকে ‘ভাগ্য নির্ভরতার’ কথা শুনে অনেকেই হয়তো বিরূপ মন্তব্য করবেন। তবে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো না। ওভালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এবং ব্রিস্টলে শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচ দুটির কথাই যদি ধরি, এটাকে ভাগ্যবিড়ম্বনা ছাড়া আর কী বলা যায়? বিশেষ করে শ্রীলংকা ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর প্রধান কোচ স্টিভ রোডসও ভাগ্যকে দুষে বলেছিলেন, ‘আমরা এখানে এসেছিলাম (শ্রীলংকার সঙ্গে) দুই পয়েন্টের জন্য। কিন্তু পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো।’

সুতরাং ভারত, পাকিস্তানের মতো পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জেতাটাই যথেষ্ট নয় বাংলাদেশের জন্য। নির্ভর করতে হবে ভাগ্যের ওপরও। এর হেরফের হলে বাংলাদেশকে ৬ তারিখেই ঢাকাগামী ফ্লাইটে উঠতে হবে। সে ক্ষেত্রে সেমিতে ওঠার লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে।