বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

৭ খুন করা কুখ্যাত নারী সিরিয়াল কিলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো চীন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:১০

চীনের কুখ্যাত নারী সিরিয়াল কিলার লাও রংঝিকে সোমবার পূর্ব চীনের জিয়াংজি প্রদেশের নানচাংয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পাওয়ার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। খবর গ্লোবাল টাইমসের।

জিয়াংজি হাই পিপলস কোর্টের পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী নারীকে ফাঁসির আগে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

লাও রংঝি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সাতজনকে নৃশংস হত্যাসহ একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরপর ২০ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। ২৮ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে ফুজিয়ান প্রদেশের জিয়ামেনে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত বছর আপিলের শুনানির পর জিয়াংসি প্রাদেশিক উচ্চ গণ আদালত তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

বিচার চলাকালীন তিনি দাবি করেছিলেন, তার অপরাধ অপহরণ ও ডাকাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। হত্যার জন্য তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিককে দোষারোপ করেছন। তার প্রাক্তনকেও ১৯৯৯ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে।

আদালত বলেছে, লাও তার প্রাক্তন প্রেমিক ফা জিয়াংয়ের সঙ্গে নানচাং, ওয়েনঝো, চাংঝো ও হেফেইসহ চারটি ভিন্ন শহরে সাতজনকে অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। ১৯৯৬ সালে এক বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে তারা দম্পতি ও তাদের তিন বছরের শিশুকে হত্যা করে।

তাদের দাবি, লাও শুধু ধারাবাহিক অপরাধে ছোট ভূমিকা রেখেছিল। তিনি শুধু তার প্রেমিককে সহায়তা করেছেন। কিন্তু আদালত লাও ও তার আইনজীবীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিচার চলাকালীন তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের কাছে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেন।

তার প্রেমিক ফাকে ১৯৯৯ সালে শেষ শিকারের বাড়িতে মুক্তিপণ আদায় করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে বছর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন লাও। পরিচয় লুকিয়ে দুই দশক ধরে পালিয়ে ছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের নভেম্বরে তাকে জিয়ামেনের একটি শপিং সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে তিনি ঘড়ি বিক্রি করতেন। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের আগস্ট মাসে ইচ্ছাকৃত হত্যা, ডাকাতি ও অপহরণের অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার রাজনৈতিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে তার অংশগ্রহণের কারণে সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

ইত্তেফাক/এসএটি