মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পদ্মায় বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনার তিনদিন পর নিখোঁজ ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা চারে ন্যাস্ত হলো।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে আটটার দিকে নদীর চর হাসাইল ও চৌসার এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃতরা হলেন- রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান রানা ও সিরাজদিখানের মালখানগর ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও সদস্য হারুন অর রশিদ।
টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি মোল্লা সোয়েব আলী জানান, সকালে নিখোঁজ ওই দুজনের লাশ পদ্মার চর হাসাইল ও চৌসার এলাকায় ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী ট্রলারটি চর হাসাইলের মিয়াবাড়ি ঘাট থেকে হাসাইল বাজারের দিকে যাচ্ছিল। অন্ধকারে একটি বাল্কহেড এসে ধাক্কা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নৌযানটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ফহিজা আক্তার নামে এক শিশু ও সিফা আক্তার নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।
এরপর রোববার দুপুর দেড়টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র ক্রেন বোটদিয়ে ৩০ ফুট পানির নিচ থেকে টেনে তোলা হয় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটি।
ট্রলারে নিহত মাহফুজুর রহমান রানার পরিবারের ৫ সদস্য ছিলেন। এরমধ্যে স্ত্রীসহ তিনজন জীবিত উদ্ধার হলেও খালাতো বোন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সেফা আক্তারের ঘটনার পর পর উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক ওবায়দুল করিম খান বলেন, ‘দুর্ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পর ক্রেনে করে টেনে তোলা হয় ৫৬ ফুট দীর্ঘ দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটি। এর ঠিক সাড়ে ৫ ঘণ্টাআগে ৩০ ফুট পানির নিচে থাকা ট্রলারটি শনাক্ত করা হয়।’
এদিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় টঙ্গিবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক উপজেলার হাসাইল গ্রামের আজিজ বেপারীর ছেলে মো. আলামিন বেপারী বাদী হয়ে এ ঘটনায় বাল্কহেডের মালিক ও চালকসহ পাঁচজনকে আসামী করে মামলা করেন। পুলিশ বাল্কহেডের ইঞ্জিন মিস্ত্রি মতলব উত্তর থানার দশআনি এলাকার মৃত আবুল হাসেম মিয়াজির ছেলে হানিফ মিয়াজি (৫৫), বাল্কহেডের বাবুর্চি একই উপজেলার সাঙ্গী ভাঙ্গা এলাকার নবির হোসেন সরকারের ছেলে রাকিব হাসান (২০), বাল্ক হেডের লস্কর শেখ সাদি বেপারীর ছেলে আবু হানিফকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মামলার অন্য ২ আসামি বাল্ক হেডের মালিক চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার দক্ষিণ দশানী গ্রামের তাইজুদ্দিন মিয়াজীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৮) ও সুকানী রাঙ্গামাটির লংগদুর মহাজন পাড়া এলাকার শাহ জালালের ছেলে বেল্লাল হোসেন (৩৫) এখনও পলাতক রয়েছে।

