রাজস্ব আদায়ের দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেছেন, উচ্চ শুল্ক আদায় যোগ্য ও শুল্ক আদায় যোগ্য পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় প্রধানত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক শুল্ক আদায় কম হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরো অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। যা বিস্তারিত জানতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃক শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে আদায় কম হয়েছে ২৪ দশমিক ৪৬ ভাগ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার অনেক পিছিয়ে থাকার ব্যাপারে শুল্ক আদায় ও প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং দুর্নীতি একটি বড়ো কারণ হিসেবে অনেকে অভিমত দিয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্ক আদায়ের একটি বিরাট অংশ আসে বাণিজ্যিকভাবে আমদানিকৃত কাপড় থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বন্ডের মাধ্যমে কিংবা ক্যাপিটাল মেশিনারি ও অন্যান্য পণ্য ঘোষণা দিয়ে কাপড় নিয়ে আসার ফলে বাণিজ্যিকভাবে কাপড় আমদানি কমে গেছে। বাজারে অবাধে বিদেশি কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। যার মূল্যও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাপড়, প্রসাধনী ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী। এই সকল খাত থেকে শুল্ক আদায়ের বিরাট অংশ পেয়ে থাকে। কিন্তু সমাপ্ত অর্থবছরে তুলনামূলকভাবে এই সকল খাত থেকে শুল্ক আদায় কম হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক মাস পূর্বে পৌঁছা কয়েকশত কন্টেইনার খালাসের জন্য এখনও বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে বিরাট অংশে মিথ্যা ঘোষণায় আনা কাপড়সহ অন্যান্য মূল্যবান পণ্য রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক শুল্ক আদায় কম হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে রয়েছে অনেক পণ্য ঢাকা আইসিডি, মোংলা ও পানগাঁও টার্মিনাল দিয়ে খালাসের প্রবণতা বেড়ে গেছে। এছাড়া গাড়ি ও আপেল আমদানি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম হয়েছে। চাল আমদানি কমে গেছে। চিনি আমদানি কমেছে। অপরিশোধিত লবণ, ফিনিশিং সিরামিক, প্লাস্টিক সামগ্রী অনেক কম আমদানি হয়েছে।
