একসঙ্গে কফি পানের গুঞ্জনকে মিথ্যা বললেন বাদশা ও মিনু

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩:৪১

রাজশাহীতে দুই মেরুর প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফজলে হোসেন বাদশা ও মিজানুর রহমান মিনু’র একসঙ্গে বসে কফি পানের গুঞ্জন ছড়িয়েছে, যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন দু'জনই। ফজলে হোসেন বাদশা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, এবং মিজানুর রহমান মিনু বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য।

এ নিয়ে নগরীতে কয়েকদিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে বাদশা ও মিনুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। এসময় কফি পানের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দু'জনই তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

জানা গেছে, স্থানীয় রাজনীতিতে বিপরীতমুখী দুই দলের শীর্ষ নেতা বাদশা ও মিনু। দু’জনেরই ছাত্রবস্থায় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। সুযোগ পেলেই একজন অন্যজনের কড়া সমালোচনা করেন। কয়েকমাস আগেও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টক-শোতে বাদশাকে নিয়ে নানা কটু কথা বলেন মিনু। তবে ফজলে হোসেন বাদশা সেখানে উপস্থিত না থাকায় কোনো জবাব দিতে পারেননি। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় একটি মহল একটি তিন তারকা হোটেলে ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাদশা-মিনুকে জড়িয়ে একসঙ্গে কফি পানের গুঞ্জন ছড়ায়। যা রাজনৈতিক মহলে চাউর হয়ে যায়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফজলে হোসেন বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, 'আমি বাসায় ফেরার পথে প্রায়ই ওই হোটেলে গিয়ে কফি পান করি। যে দিনের কথা বলা হচ্ছে, সেদিনও বাসায় ফেরার পথে সেখানে গিয়ে কফি পান করেছি। বেরিয়ে আসার সময় শুনেছি, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু সেখানে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। তবে তাকে আমি দেখিনি। তার সাথে দেখা করা বা কফি পানের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সর্বশেষ বছর দু’য়েক আগে মিনুর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল।'

একইভাবে মিজানুর রহমান মিনুও ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে দেখা হওয়ার গুঞ্জন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান। মিনু বলেন, 'দুই বছর আগে বাদশার সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়েছিল। বাদশা আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে নির্বাচন করছেন, আর আমরা দেশরক্ষায় তথাকথিত নির্বাজন বর্জন করছি। সুতরাং এই সময়ে বাদশার সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কফি পানের কোনো প্রশ্নই আসে না।'

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ১৪ দলীয় জোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি জোটের প্রার্থী হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদশার কাঁচি প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া সদর আসনে ১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক জাসদের একজন প্রার্থী মশাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে রাজশাহী মহানগর ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম