রাজধানীতে শিশুদের ক্যালিগ্রাফি ও কোলাজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:২৯

মনসিজ আর্ট একাডেমির আয়োজনে ও পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এমআরগ্লু) ও মনসিজ ক্র্যাফটের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘শিশুদের ক্যালিগ্রাফি ও কোলাজ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ক্যাফে নুরের প্রাঙ্গণে ভিন্নধর্মী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 

নাখালপাড়ার বাইতুল আতিক জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও মনসিজ আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সাদিয়া শারমিন, শিল্পী শামীম হোসাইন ও ক্যালিগ্রাফিস্ট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।


       
কর্মশালার আয়োজক ও অন্যতম প্রশিক্ষক শিল্পী সাদিয়া শারমিন বলেন, আমাদের দেশে শিশুদের জন্য পুঁথিগত বিদ্যার প্রচার ও প্রশিক্ষণের প্রচুর মাধ্যম থাকলেও সৃজনশীল কাজের পরীক্ষামূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ কম। আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য তো আরো কম। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতেই আমাদের এই প্রয়াস।

প্রশিক্ষক শিল্পী শামীম হোসাইন প্রশিক্ষণার্থীদের কোলাজ সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বলেন, ‘কোলাজ  শিল্পকর্মের এমন এক রূপ যা বিভিন্ন বস্তুর টুকরোকে একত্রিত করে একটি নতুন শিল্পের জন্ম দেয়। এই শিল্প কৌশলটি প্রস্তুত করা যেতে পারে বিভিন্ন উপকরণের সাহায্যে। নিউজ পেপার, ম্যাগাজিন, উল, কাঠের গুঁড়া, গাছের পাতা, তুলা প্রভৃতি সাইজ মতো ছিঁড়ে নিয়ে আঠার সাহায্যে সাঁটা হয়। এভাবেই নয়নাভিরাম কোলাজ চিত্র প্রস্তুত করা হয়।’

ক্যালিগ্রাফিস্ট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ক্যালিগ্রাফি সম্পর্কে বলেন, ‘ক্যালিগ্রাফি হাতের লেখা সম্পর্কিত দৃশ্যমান শিল্পকলা। এটি চারুলিপি, লিপিবিদ্যা, লিপিকলা বা হস্তলিপিশিল্প হিসেবেও পরিচিত। এই ক্যালিগ্রাফি হাতের লেখা ও একটি শিল্প তৈরি করার দক্ষতা উন্নয়নসহ ব্যক্তিগত শৈলী বিকাশ করতে সাহায্য করে। এছাড়া শিল্পকর্ম হিসেবে এটি ঘরের সৌন্দর্য বর্ধন করে। বিবাহ এবং অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে, অক্ষরের ছাঁদ প্রণয়নে ও মুদ্রাক্ষরশিল্পতে, মূল হস্তলিখিত লোগো ডিজাইনে, ধর্মীয় চিত্রে,  দৃশ্যমান নকশাকরণে, স্মৃতি নথিতে চারুলিপির ব্যবহার লক্ষ্ করা যায়। প্রশংসাপত্রে, জন্ম ও মৃত্যু সনদে, মানচিত্রে এবং অন্যান্য লিখন কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।’

বড়দের জন্য বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফি শেখার অনেক সুযোগ থাকলেও শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগ এখনো তৈরি হয়নি বলে আয়োজক পৃষ্ঠপোষকগণ মনে করেন। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ক্যালিগ্রাফির একটা সমৃদ্ধ ও বিপুল সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। যদি শৈশব থেকেই এমন সুযোগ তৈরি হয় তবে ভবিষ্যতে এসব শিক্ষার্থী প্রশিক্ষিত ক্যালিগ্রাফিস্ট হয়ে উঠবে।

ইত্তেফাক/পিও