সময়’ই সকল কিছুর উত্তর দেয়

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০১

জগতের সকল কিছুর ভিতরেই রহিয়াছে এক আশ্চর্য ভারসাম্য। ইহাই শৃঙ্খলা, ইহাই নিয়ম, ইহাই প্রকৃতির আইন। সেই আইনের ভ্যতার করিবার ক্ষমতা কাহারো নাই। বিশ্বপ্রকৃতির নিয়মকানুন তথা আইনের মধ্যে রহিয়াছে মানবসভত্যার নিয়মকানুনের বুনিয়াদ। আমরা যত বেশি সভ্য হইয়াছি, তত বেশি গড়িয়া উঠিয়াছে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সত্যিকার অর্থে, মানবসভ্যতা টিকিয়াই রহিয়াছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের খুঁটির উপর ভর করিয়া। রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ভিতরেও থাকে এই শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা। কারণ, যে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়িয়াই উঠে উহার অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা। কিন্তু যদি প্রতিনিয়তই কোথাও নিয়মকানুনের বারংবার ব্যত্যয় ঘটানো হয়, তাহা হইলে সেই সকল জনপদ ক্রমশ বসবাস অনুপযুক্ত হইয়া পড়ে।

সমস্যা হইল, উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলিতে এখনো আধাসামন্তবাদী মানসিকতা দূর হয় নাই। এই সকল বিষয় লইয়া যাহারা গবেষণা করেন, তাহারা মনে করেন, বহু যুগ ধরিয়া উন্নয়নশীল বিশ্বের সমাজ গড়িয়া উঠিয়াছে একধরনের নৈরাজ্যের ভিতর দিয়া। এই জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে একটি জাতির নিয়মতান্ত্রিক সুষ্ঠু বিকাশধারার জন্য তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠানের জন্য যতই বলা হউক—‘উহা নিয়মের মধ্যে চলিবে’—তাহা আসলে বাস্তবে দেখা যায় না। দিনের শেষে এইখানে বহু ক্ষেত্রেই নিজের ‘খেয়ালখুশিমতো’ সকল কিছু পরিচালনা করিবার প্রবণতাই প্রকট আকারে দেখা যায়। দেখা যায় দম্ভ, হুমকি-ধমকির প্রকাশও। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির কিছু প্রভাবশালী এমন শরীরী ভাষায় চলাফেরা করেন যে, তাহারা যেন কোনো ট্রাইবাল জনপদের এক ও অদ্বিতীয় রাজা। উন্নয়নশীল বিশ্বে শিক্ষাদীক্ষা হইতে শুরু করিয়া সকল কিছুই সীমিত। ফলে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মানুষরাও মনে করেন, এই ধরনের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা করিতে পারেন না—এমন কোনো কাজ নাই।

কিন্তু মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ বলিয়াছেন—‘সময় কখনো মানুষের নির্দেশিত পথে চলে না, মানুষকেই সময়ের নির্দেশিত পথে চলিতে হয়।’ একই সঙ্গে লালন সাঁই বলিয়াছেন—‘সময় গেলে সাধন হবে না।’ সুতরাং ‘সময়’ এইখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ‘সময়’ই একপর্যায়ে আসিয়া সকল কিছুর উত্তর দিয়া দেয়। সুতরাং কেহ যদি নিয়মকানুনকে পাশ কাটাইয়া নিজের মতো সকল কিছু কুক্ষিগত করিতে চাহেন, তাহাদের পরিণতি শেষাবধি পরিহাসে পরিণত হয়। এই জন্য সকল কিছু কুক্ষিগত করিবার সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করা উচিত নহে। নবিজি (স.) বলিয়াছেন যে, আল্লাহ তাহার কোনো বান্দাকে যদি মানুষের জন্য দায়িত্বশীল হিসাবে নিযুক্ত করেন, অতঃপর সেই ব্যক্তি যদি তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব খেয়ানত করিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে তাহার জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করিয়া দেন। আমাদের মনে রাখিতে হইবে, যখন কোথাও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, নিয়মকে পাশ কাটাইয়া চলা হয়—তখন সেইখানে অনিয়মই ‘নিয়ম’ হইয়া উঠে। সাধারণ মানুষও তখন মনে করেন, ‘কই, নিয়ম ভঙ্গের জন্য তো কোনো অ্যাকশন নেওয়া হইল না!’ সাধারণ জনগণের নিকট এই ধরনের বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভুল বার্তা প্রদান করে।

তবে আশাহীন হওয়া যাইবে না। সাময়িকভাবে অ্যাকশন নেওয়া হইতেছে না মানে এই নহে যে, কখনোই অ্যাকশন নেওয়া হইবে না। কাউকে না কাউকে তো ইহার সমাধান করিতেই হইবে। যাহারা নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইতেছেন, তাহাদের মনে রাখিতে হইবে—এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখিতে হইবে। ইমান রাখিতে হইবে মহান আল্লাহর উপর। কারণ, অভীষ্ট ইমান বাস্তবায়িত হইলে প্রতিশ্রুত বিজয় সুনিশ্চিত হইয়া আসিবে। যেই হেতু, ‘মুমিনদের সাহায্য ও বিজয়ী করিবার দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং লইয়াছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন