আর কদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। সারাদেশে শুরু হয়েছে ভোটের আমেজ। ব্যতিক্রম নয় কক্সবাজার ১ আসন। জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। এই আসনে গত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য ছিলেন জাফর আলম। এই সময়ে এলাকায় উন্নয়নও হয়েছে প্রচুর। এত উন্নয়নের পরেও এবার তার দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও এলাকার মানুষের সমর্থনে এবং জনপ্রতিনিধি উৎসাহে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করছেন। তবে এই প্রার্থী হওয়ার পেছনে জাফর আলম বলেন, ‘দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন করতে ইচ্ছুক সবাইকে নির্বাচন করতে বলেছেন। মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই। এমনকি কর্মীদের কাজ করতেও কোনো বাধা নেই। তাছাড়া আমার আসনে নৌকার কোনো প্রার্থী নেই। তাই আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়ে আমার আসনটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই।’
জানা যায়, এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আছেন লাঙ্গল প্রতীকে হোসনে আরা এবং কলার ছড়ি প্রতীক নিয়ে মীরাক্কেল তারকা আরমান এবং হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে কল্যাণ পার্টির বহিস্কৃত চেয়ারম্যান লেঃ কর্নেল (অবঃ) ইব্রাহিম। স্থানীয় নানা ইস্যু কাজে লাগিয়ে ভোটে জেতার জন্য মরিয়া তারা। তবে তারুণ্যর প্রতীক ও তারকা খ্যাতির কারণে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে অন্যদের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে আছেন কমরউদ্দিন আরমান।
এইরমধ্যে এমপি জাফর স্থানীয় ইস্যুর কারনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিন ১৫ টির বেশি পথসভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, তার পরিবারের সদস্যরা এবং উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এইরমধ্যে দুই উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের ১৭ জন পক্ষ নিয়েছে এমপি জাফরের। ইতোমধ্যে তারা নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন ইসিতে। অন্য প্রতিনিধিরা আছেন ইব্রাহিমের সাথে, কেউ কেউ আবার নিষ্ক্রিয়। জেলা আওয়ামী লীগ ইব্রাহিম কে সমর্থন দিলেও উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জাফরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগের পদ বঞ্চিতরা সমর্থন দিয়েছেন ইব্রাহিমকে।
ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে জাফর আলম বলেন, প্রতিদিন শো-ডাউনে লাখ মানুষের ঢল প্রমাণ করেছে চকরিয়া-পেকুয়ার জনগণ আমাকে ভালোবাসে। আমি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।’
