নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আবাহনীর ফুটবলাররা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৩:০১

ফর্টিসের কাছে হেরে গতকাল দুপুরেই আবাহনীর কোচিং স্টাফ বৈঠক করেছে। কেন এমন হচ্ছে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে। কোচিং প্যানেল মনে করছে, প্রথমার্ধে ভালো খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে পারছেন না খেলোয়াড়রা। কেন রক্ষণভাগ ভুল করছে। ফরোয়ার্ডরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না কেন। ফিটনেসের অভাব রয়েছে কি না। কোথায় ভুল হচ্ছে তা জানতে আবাহনীর পরিচালকদেরও সময় নেই। তারা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। বাঘা বাঘা কর্মকর্তারা আবাহনীর পরিচালক পদে রয়েছেন। তাদের অনেকেই জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী। আবাহনীর ফুটবল ব্যর্থতার খবর রাখার সময় কোথায় এখন।

দুই ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট থাকার কথা ৬, সেখানে আছে ১। টেবিলের অষ্টম স্থানে রয়েছে আবাহনী। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ড্র আর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে আবাহনী। কেন আবাহনীর এই অবস্থা। খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল ধানমন্ডিতে আবাহনী টেন্টে কেউ নেই। ক্যাম্পে কোনো খেলোয়াড় নেই। ঘুরতে গেছে, বাসায় গেছে। নানা কাজে গিয়েছে। যারা নিয়মিত ক্যাম্পে থাকেন তারাও নেই। পুরো ক্যাম্প ফাঁকা। দুই ম্যাচে মহামূল্যবান পয়েন্ট হারিয়ে আবাহনীর ফুটবলাররা এখন নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন। 

আসলামদের সময় ম্যাচ হারা তো দূরের কথা। ড্র হলে তারা ক্লাব থেকে বের হতেন না। মুখ দেখাতে পারতেন না। খেলায় হেরে গেলে আসলামরা রুমের মধ্যেই থাকতেন। বাইরে দর্শক চাপ। উঁকি দিতে গেলেই গালমন্দ শুনতে হতো। এখন ক্লাব টেন্ট ঘিরে দর্শক না থাকলেও মোহামেডান আবাহনীর সমর্থকরা খোঁজ রাখেন। ক্লাবের চারপাশ ঘিরে সমর্থকদের আনাগোনা থাকুক না থাকুক এখনকার ফুটবলারদের মধ্যে সেই জ্ঞান নেই। কিছুই যায় আসে না। রাজশাহীতে আগের দিন বিকালে ফর্টিস এফসির কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। পরদিনই তারা ঘুরতে চলে গেছেন। দুপুরে ক্লাবে খাওয়া-দাওয়া করেননি অনেকে। যারা ছিলেন তারাও দুপুরেই উধাও। ম্যাচ হেরেও নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আবাহনীর ফুটবলাররা।

টানা তিন ম্যাচ খেলেছে আবাহনী। স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে ভালো খেলে দ্বিতীয়ার্ধে টপাটপ ৪ গোল হজম করেছিল বসুন্ধরা কিংসের কাছে। এরপর লিগের প্রথম ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পরশু হারের (১-০) মালা গলায় ঢাকায় ফেরে আবাহনী। ফর্টিসের বিপক্ষে ৩৭ মিনিটে গোল হজম করে ৫০ মিনিটেরও বেশি সময় পেয়ে গোল শোধ করতে পারেনি আবাহনী। এই দল নিয়ে কি চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে। লিগ রেস থেকে কি ছিটকে গেল আবাহনী। বসুন্ধরা কিংস দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট পেয়ে সবার ওপরে চলে গেছে। কিংসের লাগাম ধরতে পারবে কি আবাহনী। 

ফুটবলের সহজ সমীকরণে মেলে না। কারণ আবাহনীকে পরবর্তী সব ম্যাচ জিততে হবে, কিংসকে পয়েন্ট হারাতে হবে। তখন আবাহনীর সামনে সুযোগ আসতে পারে। আবাহনীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বসুন্ধরা কিংস শক্তির বিচারে অনেক এগিয়ে। এই অবস্থায় আবাহনীও হাল ছাড়ছে না। এখনো তারা স্বপ্ন দেখে ট্রফি যে কেউ জিততে পারে। কারণ লিগ লম্বা পথের লড়াই। আবাহনীর টিম অফিসিয়াল মানস চন্দ্র দাসের দাবি এখনই কোনো দল দাবি করতে পারবে না তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।’

ফুটবলে আবাহনীর এই দুরাবস্থা আগে হয়নি। লিগের প্রথম দুই ম্যাচেই ড্র এবং হার কবে দেখেছেন মনে করতে পারছেন না। আবাহনীর ম্যানেজার সুভাস সোম জন্মলগ্ন থেকেই এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। গতকাল বিকালে অফিসেই ছিলেন। কেমন আছেন জানতে চাইলে একরাশ হতাশা চোখেমুখে নাড়া দিয়ে উঠল। স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনাল এবং লিগের দুই ম্যাচসহ টানা তিন খেলায় জিততে না পারার ঘটনা কি আর আছে, কিংবা লিগের প্রথম দুই ম্যাচ জিততে না পারা? সুভাস সোম কপাল কুচকালেন। ঠোঁট বাঁকা করলেন। চোখ এদিক-ওদিক ঘোরালেন। তারপর বললেন, ‘নাহ, মনে পড়ছে না।’ 

আশি, নব্বইয়ের দশকের ফুটবল হলে হারের পরপরই ক্লাবে আক্রমণ করত দর্শক। একবার প্রেমালাল, ছোট কামাল, মহসীন, আসলামরা জিততে পারেননি। ক্লাবে ফিরে দেখেন তাদের বিছানা-পত্র সব বাইরে পড়ে আছে। রুমে রুমে সব এলোমেলো। দর্শকের কাছে জবাবদিহিতা ছিল। এখন সেই ছবি বিবর্ণ হয়ে গেছে, মরেই গেছে। আসলাম বললেন, ‘শুনেছি হারের কথা। লজ্জা লাগে। কষ্ট লাগে।’ আবাহনীর জন্য জীবন দিয়ে খেলেছেন আসলামরা। সেই আবাহনী এখন লিগের শুরুতেই পিছিয়ে যাচ্ছে। দর্শকের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ