মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চরভদ্রাসনবাসীর কাছে দশ বছর পরিশ্রমের হক চাইলেন নিক্সন চৌধুরী

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:৪০

ফরিদপুর-৪ আসনের সতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, আমি আপনাদের এলাকার উন্নয়নে দশ বছর পরিশ্রম করেছি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনাদের নানামুখী উন্নয়নে কাজ করেছি। আজ আমি আপনাদের কাছে আমার পরিশ্রমের হক চাইতে এসেছি। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আমার ঈগল মার্কায় আপনারা ভোট দিবেন এই প্রত্যাশা আমার। 

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে এ কথা বলেন তিনি। 

নিক্সন চৌধুরী বলেন, আপনাদের ভোট পাওয়া আমার অধিকার, আমার হক। আপনাদের প্রধান সমস্যা ছিল নদী ভাঙন। বালিয়া ডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী ও হাজী ডাঙ্গী যখন নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। আমি স্বচক্ষে ভাঙন এলাকায় গিয়ে মা-চাচিদের চোখের পানি ফেলতে দেখেছি। আগুনে পুড়লে মানুষের ভিটে থাকে কিন্তু নদীতে ভাঙলে কিছুই থাকে না। চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদী তীর রক্ষা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে অস্তিত্ব সংকটে পরত চরভদ্রাসন উপজেলা। ভাঙনে বিলীন হয়ে যেত শতশত মানুষের ঘর বাড়ি। 

আগামী ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপস্থিত জনতার কাছে নিজের ঈগল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, আপনারা আমাকে দুই দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি আপনাদের কথা দিয়েছিলাম নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হবে। আমি আমার ঈমানী দায়িত্ব পালন করেছি। তিনশত কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর কয়েকটি স্থানে তীর রক্ষা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গিয়ে আলোকিত করেছে চরাঞ্চল। চরেরর ভাই বোনেরা এখন বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস খায়। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় লেখা পড়া করে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রশাসনিক ভবন, রাস্তাঘাটসহ সবত্রই উন্নয়ন করেছি। আমি য়েহেতু আপনাদের উন্নয়ন এনে দিয়েছি তাই আপনাদের কাছে সবার আগে ভোট পাওয়ার অধিকার আমার।

নিক্সন চৌধুরী আরও বলেন, আমি আপনাদের নানামুখী উন্নয়ন করে যদি ভোট না পাই তাহলে পরবর্তীতে অন্য কেউ এমপি হয়ে এলাকার উন্নয়ন করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আমি আমার যৌবনের দশটি বছর আমার পরিবারকে সময় না দিয়ে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন ও সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। করোনা মহামারিতে মানুষ যেখানে ঘর থেকে বের হয় নাই। হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়েছে স্বজনেরা সেই সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে সাধ্যমত আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে পাশে থাকতে চাই। দুই দিন পর নির্বাচন আপনারা ঘরে বসে না থেকে থেকে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমার ঈগল প্রতীকের জন্য ভোট চান। একটি ভোটের অনেক মূল্য।

উঠান বৈঠকে ফরিদপুর-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহকে উদ্দেশ্য করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, বুধবার কাজী জাফর উল্লাহর লোকেরা আমার গাড়ির সামনে বৈঠা ও রামদা নিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে এটা কি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন না। আমি নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি আমি অপেক্ষা করতেছি, দেখি তারা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করছেন। সেখান কাজী জাফর উল্লাহ কো-চেয়ারম্যান হয়ে তার দলের লোকজন দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পায়তারা করছে। নির্বাচনে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় কাজী জাফর উল্লাহকে নিতে হবে।


 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কাউছার, সদর ইউপি চেয়ারম্যন মো. আজাদ খান, চর ঝাউকান্দার চেয়ারম্যন বদরুজ্জামান মৃধা, থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার আলী মোল্যা, থানা যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুরাদ, মো. রাসেল জামান, মো. মিজানুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মো. কামরুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

একইদিন রাতে উপজেলার বালিয়া ডাঙ্গী দুটি পথসভা ও আদর্শ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি নিক্সন চৌধুরী।

ইত্তেফাক/পিও