বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ ভোট, তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৬

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌষের সকালে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ভোটার উপস্থিতি। অনেকটা ছুটির আমেজে ভোটাররা দুপুরের পর থেকে ভোটকেন্দ্রে আসতে থাকেন। সকালে বেশির ভাগ কেন্দ্রেই গড়ে ১৫ থেকে ২৫ ভাগ ভোটার ভোট প্রয়োগ করেন। বেলা ৩টার পর শেষ সময় পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনেকের অভিযোগ, এসব ভোটারের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মী।

এদিকে ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি ও রেব স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দিয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রের আশপাশে সশস্ত্র বাহিনীর টহল দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার লক্ষ্যে টহল দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে এই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

কিছু কিছু এলাকায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। হাজারীবাগে একটি কেন্দ্রের সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চার জন আহত হয়েছেন। ভোটগ্রহণের শেষ সময়ে দু-একটি কেন্দ্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভোট দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় প্রার্থীরা প্রতিবাদ করলে সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা ঐ সব অপ্রাপ্তবয়স্ককে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। এ সময় সঙ্গে তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং এই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। সকাল থেকেই এখানে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলেছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুর নাগাদ সেটা বাড়ে। সকাল ১০টার পর ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদের স্ত্রী তানিয়া ফেরদৌস ভোট দিতে আসেন গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে ছিলেন স্বামী ফেরদৌস আহমেদ ও তার দুই মেয়ে। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। এ সময় তার মা নূরজাহানও সঙ্গে ছিলেন।

গুলশান থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাচাঁদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলেছে এই কেন্দ্রে। পোলিং বুথের বাইরে ছিল ভোটারদের লাইন। ভোটকেন্দ্রের বিভিন্ন ভোটকক্ষে গিয়ে বিভিন্ন প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কেন্দ্রের ভোটকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ভোট দিতে এসেছেন বৃদ্ধরাও। চলাফেরার সামর্থ্য কম থাকায় কোনো কোনো বৃদ্ধ ভোটারকে দেখা গেল স্বজনদের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে উপস্থিত হয়েছেন। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার মাহমুদুর রহমান জানান, কেন্দ্রের কোথাও কোনো গোলযোগ সৃষ্টি হয়নি।

এদিকে একই প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ৪৩ নং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকক্ষের বাইরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তারা। জাহানারা নামে এক নারী ভোটার জানান, ভোট দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি তার।

সকালে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম :রাজধানীর মতিঝিল-রমনা ঢাকা-৮ আসনের বেশির ভাগ কেন্দ্রে সকালে ভোট পড়েছে অনেক কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুর ২টার দিকে বেশির ভাগ কেন্দ্রে গড়ে ২৫ ভাগ ভোটার ভোট প্রয়োগ করেছেন। এসব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারগণ বলেন, বিকাল ৪টার মধ্যে ভোটগ্রহণের সংখ্যা আরো বাড়বে।

সাড়ে ৩টার দিকে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি অনেক বেশি। স্কুলের মাঠে ৩০০-৪০০ মানুষের ভিড়। তারা সবাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক। সমর্থকদের মধ্যে অনেকে কিশোর বয়সের। তবে কিশোর বয়সের দুই জন ভোট দিতে এলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা নিজেরাই পালিয়ে যায়।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের বিপরীত পাশে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের তিনটি ভোটকেন্দ্র। এখানে ৬৬ নম্বর ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সফল বড়ুয়া বলেন, ২ হাজার ২৯৪ জন নারী ভোটারের মধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন ভোট দিয়েছেন। মতিঝিলের টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৯৭ জন, সবাই নারী ভোটার। দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১০টি ভোট পড়েছে। আরেকটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৯৬ জন ভোটারের মধ্যে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৮০টি। মতিঝিল কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৬৪টি। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৬০ জন। দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে র্যাবের ডিজি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ভোটে যে কোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধে তারা মাঠে কাজ করছেন।

নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা :ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে হাজেরা উচ্চ বিদ্যালয়, জুরাইন বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুরাইন আশ্রাফ মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে ভোটার উপস্থিতি সামান্য দেখা গিয়েছে। একসঙ্গে তিন-চার জন করে ভোটার এসে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরেছেন। আর বাইরে ছিল নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট সানজীদা খানম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. আওলাদ হোসেন এবং লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার কর্মী-সমর্থকেরা।

ঢাকা-৫ (যাত্রবাড়ী-ডেমরা) আসনের বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্র, একে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি ছিলো কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যাও বেড়েছে। এই আসনে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন মো. কামরুল হোসেন রিপন। তিনি বলছেন, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে।

ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-ওয়ারী-কোতয়ালি-গেন্ডারিয়া) আসনের ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এই আসনের নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। কেন্দ্রে অন্য প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের খুব একটা চোখে পড়েনি।

ঢাকা-৭ (লালবাগ-হাজারীবাগ) আসনে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের ছিল একক আধিপত্য। এই আসনের ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ল। এসব কেন্দ্রের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কোনো কর্মী-সমর্থকের দেখা পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিমের ছবি সংবলিত কার্ড গলায় নিয়ে ঘুরছিলেন কর্মীরা।

ভোটার উপস্থিতি ছিল কম :রাজধানী ঢাকায় জাতীয় পার্টিকে যে আসনে আওয়ামী লীগ ছাড় দিয়েছে, সেটি হলো ঢাকা-১৮। এই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী ও দলের নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের। এছাড়া কেটলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. খসরু চৌধুরী এবং ট্রাক প্রতীকে মাঠে আছেন দলের এই কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এস এম তোফাজ্জল হোসেন। সকাল ৯টায় এই আসনের কামারপাড়া স্কুল কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি বেশ ভালো। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারী ভোটারের উপস্থিতিও দেখা গেছে। তবে আরো কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে খুব বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর মধ্যে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ কেন্দ্রে ভোটার ১০ হাজার ৮৩৭ হলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১১৭টি।

জীবনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এই আসনের জোয়ার সাহারা এলাকার বাসিন্দা প্রান্ত আশ্চার্য। তিনি বলেন, প্রথম বারের মতো ভোট দিতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে।

ঢাকা-১০ আসনে পোলিং এজেন্ট কেবল নৌকা আর লাঙ্গলের :জিগাতলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফটকের সামনে লোকজনের জটলা। তারা সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফেরদৌস আহমেদের সমর্থক। অন্য প্রার্থীর সমর্থকদের তখনো দেখা নেই। তবে কেন্দ্রের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পোস্টার দেখা যায়। সকাল গড়িয়ে দুপুর এলেও ঢাকা-১০ আসনে অন্তত ১০টির কেন্দ্র ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। সবখানেই কেবল নৌকা সমর্থকদের ভিড়।

দুপুর সাড়ে ১২টায় জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির প্রধান হারুনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা সাংবাদিকদের বলেন, আমি কয়েকটা কেন্দ্রে ঘুরেছি। সব জায়গায় সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। একই সময়ে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন নৌকা সমর্থিত প্রার্থী ফেরদৌস আহমেদ। রুপালি পর্দার নায়ককে কাছে পেয়ে অনেকেই তার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় জিগাতলা মোড়ে ইউল্যাব ভবনের সামনে ফেরদৌস বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো রয়েছে। শীতের দিন হওয়ায় সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমছিল। তবে দুপুর থেকে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।’

‘জীবনে আর ভোট না-ও দিবার পারি’ :‘জীবনে আর ভোট না-ও দিবার পারি, সুযোগ যহন পাইছি, দিয়া গেলাম।’ অনিশ্চিত জীবন আর শারীরিক অসুস্থতায় জীবনে আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ আর না-ও পেতে পারেন তিনি। তাই ভাঙা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম সরকার। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউট স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেন তিনি।

বাদশা ফয়সল ইনস্টিটিউটে গতকাল সকাল ৯টায় নিজের ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-১৩ আসনে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা ভোটের বিরোধিতা করছে, তারা গণতন্ত্রের বিরোধিতা করছে। জনগণ তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা আছে। তারা আমাকে বলেছেন, এত সুন্দর পরিবেশ, আমরা অবাক হয়ে গেছি।

মিরপুরে ভোটার উপস্থিতি সামান্য :রাজধানীর মিরপুরের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ শাখা-৩ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি সামান্য। এখানে পুরুষ ও নারী ভোটারদের মোট সাতটি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর বুথটি নারী ভোটারদের। এখানে ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৩১৫। সকাল ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪০টি।

এই কেন্দ্রে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণ চলে। এই আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী আট জন। নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। এই কেন্দ্রে নৌকার পোলিং এজেন্ট দেখা গেছে প্রতিটি বুথেই। একটি মাত্র বুথে দেখা গেছে জাসদের মশাল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট। এ ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্টদের এখানে দেখা যায়নি। দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শেরেবাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেওয়া শেষে কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আমরা যে আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন করতে পারি, সেটাই আজকে প্রমাণিত হচ্ছে।’

আহত চার জন :রাজধানীর হাজারীবাগ বটতলা এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ চার জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—আমির হোসেন (৬০), বাদল আহমেদ (৫০), তার ছেলে তানভির আহমেদ (৮) ও মাকসুদা বেগম (৫০)। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাজারীবাগ বটতলা জামিয়া আনওয়ারুল উলুম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সায়েদাবাদ করাটিয়া সিএমএস মেমোরিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আনন্দ চন্দ্র ও মো. অন্তর নামে আনসারের এক সদস্য আহত হয়েছেন।

ইত্তেফাক/এমএএম