আলোচিত সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে চার নম্বর স্বাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ সময় নুসরাতের সহপাঠী নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে আসামি পক্ষের ১৬ আইনজীবী বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর ২:৩০ মিনিট এবং ৩ টা থেকে সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত একটানা জেরা করেন।
সোমবার ১ জুলাই আদালতে ৩ নম্বর স্বাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি আদালতে বিচারকের সামনে তার জবানবন্দি দেয়। বিচারক তা লিখিতভাবে রেকর্ড করেন। এরপর আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরা করার আদেশ দিলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন।
বিকাল সাড়ে ৪টায় ৪র্থ স্বাক্ষী নুরুল আমিনের জবানবন্দি লিখিতভাবে রেকর্ড করেন আদালত। চতুর্থ স্বাক্ষী সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার দপ্তরি। তিনি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সম্পর্কীয় শ্বশুর। আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ৫ম কর্মদিবসে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ৪র্থ স্বাক্ষীকে জেরা করার আদেশ দেন আদালত। উক্ত মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ মোস্তফার জবানবন্দি গ্রহণের আদেশ দিয়ে আদালত ৪র্থ কর্মদিবসের কার্যক্রম মূলতবি ঘোষণা করেন।
আদালত চলাকালীন সময়ে নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় জড়িত ১৬ চার্জশীটভূক্ত আসামি সকলে আদালতে হাজির ছিলেন। চার্জশিটভূক্ত আসামিরা হচ্ছেন, অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মোঃ শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান।
আরও পড়ুন: শ্রীপুর অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
