বগুড়ার ৭ আসনে খালেদা জিয়াসহ ২৫ জনের মনোনয়ন বাতিল

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:১৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বগুড়া জেলার ৭টি আসনে খালেদা জিয়ার দুটিসহ ২৫টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। রবিবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে এই যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প বিএনপির দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা হওয়ায়  ওই আসনে বিএনপির আর কোন প্রার্থী নেই।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বগুড়া জেলার ৭টি আসনে মোট ৮২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে খালেদা, বগুড়া-৬ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বগুড়া-(শিবগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না অন্যতম। চাছাই-বাছাইকালে সবার নজর ছিল এসব প্রার্থীদের দিকে। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া ছাড়া অপর দুই হেভিয়েট প্রার্থী দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি প্রার্থী সরকার বাদলেরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মোরশেদ মিলটন গত ২৮ নভেম্বর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন,তার পদত্যাপত্র গৃহীত হয়নি। আর সরকার বাদল পদত্যাগ না করায় তারটিও বাতিল করা হয়েছে। এতে করে এই আসনে বিএনপির আর কোন প্রার্থী নেই। এছাড়া অন্যসব প্রার্থীর যেসব মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তার মধ্যে ছিল ঋণ খেলাপী,এক শতাংশ কম ভোট না থাকা ও বিভিন্ন ধরনের ভুল ত্রুটি।

বগুড়ার ৭টি আসন থেকে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা হলো- বগুড়া-১(সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ঋণ খেলাপীর জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু সুলতান এবং আব্দুল মান্নান মিয়া আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল না করার জন্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং আবুল কাশেম ফকির, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মহিত বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকার জন্য এবং তাজউদ্দীন মণ্ডল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যাপক জাহিদুর রহমানের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের দলের নিবন্ধন না থাকার কারণে মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়।

আওয়ামী লীগ থেকে কামাল উদ্দীন কবিরাজ, এ এন এম আহসানুল হক এবং ইউনুস আলী মণ্ডল এদের কেউই দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা করা হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জামায়াতে ইসলামী) মাওয়লানা তায়েব আলী এখনো কাহালু উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকার জন্য এবং ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেওয়ায় আশরাফুল ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। 

বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট) আসনে ঋন খেলাপীর জন্য বিকল্পধারার মাহাবুব আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী দবিবুর রহমান বর্তমানে শেরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান থাকার জন্য এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেওয়ায় তাহসিনা জামান হিমিকার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে খালেদা জিয়া দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ায়, বিএনপির প্রার্থী বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় এবং ঋণ খেলাপীর জন্য জাকের পার্টির ফয়সাল বিন শফিকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়া, গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন, শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল, জাসদ প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক,আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডা. মোস্তফা আলী নান্নু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খান এবং রেজাউল করিম এর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ