রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের নিকট থেকে সংবর্ধনার নামে জোরপূর্বক ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে টেবিল পেতে বসেছে। আজ বুধবার পর্যন্ত টাকা আদায় চলবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, আট বিভাগের অষ্টম পর্বের ১ হাজারের বেশি বিদায়ী শিক্ষার্থীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশিক্ষণ (ইন্টার্নশিপ) ভাতা ও জামানতের টাকা গত সোমবার বিতরণ শুরু হয়েছে। চলবে আজ বুধবার বিকাল পর্যন্ত। এই শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপের ১৩ হাজার ও জামানতের ৪০০ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু সবাই পাচ্ছেন ১২ হাজার ২৫০ টাকা। এরমধ্যে কোর্স সমাপনী সার্টিফিকেট বাবদ কর্মচারীরা ৫০ টাকা ও মসজিদ উন্নয়নে মুয়াজ্জিন ১০০ টাকা নিচ্ছেন। এছাড়া পাশেই চেয়ার-টেবিল পেতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিবন্ধনের নামে ১ হাজার টাকা দিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে।
তবে রাজশাহী পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ মোহম্মদ আব্দুর রশীদ মল্লিক জানান, এই টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রশাসন এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনো সম্মতি নেই। কথিত অনুষ্ঠানের জন্য তাকে টাকা আদায়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল স্বীকার করে অধ্যক্ষ জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। অধ্যক্ষ আরও জানান, যে রসিদ দেওয়া হচ্ছে, সেটা ওরাই (ছাত্রলীগ) বানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, এই আশঙ্কায় গত ১১ জানুয়ারি পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সকালে পুলিশ এসেছিল, তারপর চলে গেছে।
এ বিষয়ে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জীহান জানান, বিভাগের ক্যাপ্টেন ছাত্রলীগকে আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিদায় অনুষ্ঠানের টাকা আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনিও টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন জীহান।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বিদায় সংবর্ধনার কথা তারা জানেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন ক্লাস ক্যাপ্টেন জানান, ‘আমরা আগে কিছুই জানতাম না। সোমবার দেখছি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টাকা তুলছে। তাদের কে দায়িত্ব দিয়েছে, জানি না।’
সিভিল বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘সবাই দিচ্ছে, তাই আমিও দিয়েছি। সবাই ক্যাম্পাস থেকে চলে যাচ্ছে। তাই বিদায় অনুষ্ঠান হলে আসব কেমনে?’
রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম সোমবার রাতে জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন বিদায়ী অনুষ্ঠানটি প্রত্যেক বিভাগে হবে। ছাত্রলীগ এতে সহযোগিতা করছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম জানান, পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ চিঠি দিয়ে পুলিশ চেয়েছিলেন। নগরীর চন্দ্রিমা থানার পুলিশ গিয়েছিল। কোনো অভিযোগ কিংবা ঝামেলা হয়নি।
