টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের হামলায় মুক্তার হোসেন (৪৫) ও কিতাব আলী (৪৮) নামের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা ও টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দাড়িপাকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দাড়িপাকা গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে কিতাব আলী ও আতাব আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত ফজর আলী ছেলে কদম আলী, আদম আলী ও সায়েদ আলীর জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে সোমবার রাতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করতে যান কদম আলী ও তার ভাইয়েরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে কিতাব আলী ও তার চাচাত ভাই মুক্তার হোসেনকে বেধড়ক মারধর করে কদম আলী ও তার ভাই আদম আলী, সায়েদ আলী, মেয়ের জামাতা সুজন, ভাগিনা হৃদয়, ছেলে নাছির উদ্দিন, স্ত্রী হেনা, বোন রোমেছা এবং সাজেদা ও মনোয়ারা বেগম। পরে গুরুতর আহতদের প্রথমে সখীপুর পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে মুক্তার হোসেনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুক্তার হোসেন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রয়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তার মাথা, ঘাড়ে ও হাতে-পায়ে ব্যাপক আঘাত রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় নূরু মিয়া ও বিথী বেগম জানান, ঘটনার সময় ডাক চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে হামলাকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়। কদম আলী একজন টাউট লোক। এলাকায় টাকার দাপট দেখায়।
মুক্তার হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে কদম আলী ও তার পরিবারের লোকজন মারপিট করেছে। তার দুটি পা ভেঙে চুরমার করেছে, মাথায় বারি দিছে; বাঁচবে কিনা জানি না, ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি এর চরম শাস্তি দাবি করেন।
কিতাব আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম জানান, তার স্বামীকে ১০/১২ জনে লাঠি দিয়া পিটাইছে; গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনিও স্বামীকে মারধরের ঘটনায় হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। এদিকে হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে কদম আলীর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয় যায় নাই।
স্থানীয় এলাকাবাসীও এমন হামলার ঘটনার শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মীর আমীর হোসেন হামলার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন বলে জানান।
স্থানীয় বড়চওনা ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে বিরোধপূর্ণ জমির বিষয় জানাতে এসেছিলেন উভয়পক্ষ। মীমংসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তারা। সখীপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ হয় নাই বলে জানা গেছে।
