অন্ধকারে সড়ক নির্মাণের কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান!

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:১৫

রাজশাহীর বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগটি করেছেন উপজেলার মুর্শিদপুর গ্রামের সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনের ছেলে মওদুদ আহমেদ সুবজ। 

তবে পৌর সভার প্রকৌশলী নাজমুল আলম জানান, উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। ঐ দিন আমরা সবাই ছুটিতে ছিলাম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একশ মিটার রাস্তার কাজ করেছে পুরো অন্ধকারে। 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে মওদুদ আহমেদ সবুজ জানান, বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান গেট থেকে আবাসিক এলাকাসমূহে গত ৬ জানুয়ারি ২০২৪ প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ করার কথা ‌‌‘মেসার্স রিপা এন্টার প্রাইজ’, পরিচালক রবিউল ইসলামের। কিন্তু বাস্তব অর্থে দেখা গেছে, ঐ কাজটি করছেন বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর লোকজন।  সেখানে ব্লক কেটে বালি ভরটা দেওয়ার পর পানি দিয়ে রোলিং করে ইটের সোলিং বসিয়ে তার ওপর এক ইঞ্চি ব্লকসহ এক ফিট অন্তর অন্তর লোহার রড় দিয়ে আর সি সি কনক্লিট ঢালায় হওয়ার কথা।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐ কাজে কোন ইটের সোলিং কিংবা লোহার রডের নিচে সিমেন্টের ব্লক দেওয়া হয়নি। উপরন্ত রডের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই ফিট অন্তর-অন্তর। সেখানে যে ঢালায় দেওয়া হয়েছে তাতে সিমেন্টের পরিমাণ ছিল পরিমিত মাপের চেয়ে অনেক কম এবং ইটের খোয়া ছিল একেবারে নিম্নমানের। ব্যবহার করা হয়নি ডোমার বালু। পাতলা পলিথিন বিছিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে দায়সারা উন্নয়ন কাজ সম্পন্য করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিপা এন্টার প্রাইজের পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, মেয়র আক্কাস আলী নিজে এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। তবে তার লোকজন সম্পৃক্ত রয়েছে। উক্ত রাস্তা নির্মাণ কাজের দিন আমি বাইরে ছিলাম। যদি কাজে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে টাকা কর্তন করে বিল দেওয়ার বিধান রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে বাঘা পৌর মেয়র আক্কাস আলীকে মোবাইল করা হলে তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি। তবে পৌর সভার প্রকৌশলী নাজমুল আলম মুঠফোনে জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন আমরা সবাই ছুটিতে ছিলাম। ঐদিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একশ মিটার রাস্তার কাজ করেছে পুরো অন্ধকারে। কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরাদ্দকৃত উন্নয়ন কাজের টাকা কর্তন করে বিল দেওয়ার বিধান রয়েছেন, এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ কথা সঠিক নয়। তাহলে ব্যবস্থা নেননি কেন? এ সময় তিনি এই প্রতিবেদককে সাক্ষাতে এসে কথা বলার অনুরোধ জানান।   

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। যদিও আমি এ রাস্তর অথরেটি নয়, তার পরেও উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাব।

ইত্তেফাক/পিও