ইউএস অ্যাপের প্রতারণা: রাজশাহীতে আরেকটি মামলা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:৩৮

মোবাইল অ্যাপ ইউএস অ্যাগ্রিমেন্টে বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রাজশাহীতে আরেকটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী মামলাটি করেন। 

এই মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন ইউএস এগ্রিমেন্টের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান মো. ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ফাতেমা তুজ জহুরা মিলি, কান্ট্রি লিডার মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ প্রধান সজিব কুমার ভৌমিক, কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারুক হোসাইন সুজন ও রাজশাহী জেলা এজেন্ট মিঠুন মণ্ডল।

এর মধ্যে ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ ও ফাতেমা তুজ জহুরা মিলি দম্পতির রাজশাহীর নওদাপাড়ার, মোতালেব লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জেন, ফারুক মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের, সজিব ভৌমিক নোয়াখালীর মাইজদির ও মিঠুন রাজশাহীর বোয়ালিয়াপাড়ার বাসিন্দা।
 
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগী মোস্তাক হোসেন রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় প্রথম মামলাটি করেন। ঐ মামলায় সজিব ভৌমিক ছাড়া অপর পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এই মামলার পাঁচ আসামি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

নতুন মামলার বাদী ইউসুফ আলী এজাহারে বলেছেন, ওয়াহেদুজ্জামান সোহাগ তাকে ইউএস অ্যাপে বিনিয়োগে উদ্ধুদ্ধ করলে ২০২২ সালেতিন কিস্তিতে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।

বাদী এজাহারে বলেন, আসামিরা তাকে জানান, যে বিনিয়োগের টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলে দেওয়া যাবে। আর টাকা না তুললে প্রতি লাখে মাসে ১১ হাজার ২০০ টাকা রেমিটেন্স হিসেবে পাওয়া যাবে। কিন্তু তিনি মাত্র দুইবার মুনাফা পান। পরে অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়। দেশীয় প্রতারকচক্র এই অ্যাপ বানিয়ে বিনিয়োগের নামে টাকা লুট করেছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে ‘ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট’ অ্যাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। 

ভুক্তভোগীরা বলেন, শুধু মোবাইলে অ্যাপ ইনস্টল করে একটা হিসাব খুলে দিয়ে নগদ টাকা নিতেন প্রতারকরা। এভাবে রাজশাহীর কয়েকশো মানুষের টাকা নেওয়া হয়। সারাদেশের প্রায় দুই হাজার ব্যক্তির থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন জানান, ইউএস অ্যাগ্রিমেন্টের প্রতারণার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও