বগুড়ায় ফুটপাতে বেগুনী খালার বাহারি পিঠাপুলি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৫

বগুড়াসহ পুরো উত্তরবঙ্গে জাঁকিয়ে বসেছে শীত। শীতের হিমহিম আমেজের সঙ্গে পিঠাপুলির যেন অনেকটা আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আর এ জন্য বগুড়া শহরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা এবং মোড়ে মাড়ে জমেছে পিঠার আয়োজন। আগে শীত এলেই বাড়ি বাড়ি গৃহবধূরা পিঠা বানাতে বসতেন। উনুনের পাশে বসে বাড়ির সদস্যরা পিঠার মজা নিতেন। এখন দিন পালটেছে। এখন আর বাড়িতে কষ্ট করে কেউ পিঠা তৈরি করতে চায় না। শীত আসলেই মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা তৎপর হয়ে ওঠেন।

বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় কারমাইকেল সড়কের শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথের পাশে খানিকটা বড় পরিসরেই বসানো হয় শীতকেন্দ্রিক ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দোকানের তিন পাশ ঘিরে ক্রেতারা শীতকালীন রকমারি পিঠার স্বাদ নিয়ে থাকেন। এখানে পিঠার পসরা নিয়ে বসেছেন বেগুনী বেগম। ৩০ বছর ধরে শীত জুড়ে স্বামী ইদ্রিস ব্যাপারী আর সঙ্গে কয়েক জন কর্মচারীকে নিয়ে পিঠার দোকান নিয়ে বসেন বেগুনী বেগম। এই দম্পতির সঙ্গে মোট ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন।

বেগুনী বেগমের দোকানে যারা কাজ করেন তাদের কেউ পিঠা বানানো, আবার কেউ ক্রেতাদের পিঠা পরিবেশনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বেগুনী বেগমও পিঠা বানান। তিনি তেলের পিঠা ভাজেন। তার স্বামী চিতই তৈরি করেন। ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা ভাজেন ঝাল চাপড়ি। কুশলি (ঝাল এবং মিষ্টি), তেল (পাকান) পিঠা, চিতই বিক্রি করা হয় বেগুনী বেগমের দোকানে। ক্রেতারা বেগুনী বেগমকে ‘বেগুনী খালা’ সম্বোধন করেই ডাকেন।

পিঠার মৌসুমি এই ব্যবসা অনেক দরিদ্র মানুষের উপার্জনের পথ খুলে দিয়েছে। পিঠা বিক্রির আয়ে চলছে অনেকের সংসার। নাগরিক জীবনের নানা ব্যস্ততায় যারা ঘরে পিঠা বানিয়ে খাওয়ার সময় পান না, তারা এসব দোকান থেকে পিঠা কিনে নেন। পিঠা খেতে আসা কলেজ শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, শীতের এই সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সঙ্গে সরষের ভর্তা, মরিচের ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তার স্বাদে জিবে জল আসে। এ স্বাদের কারণেই প্রতিদিন এখানে পিঠা খেতে আসেন তিনি। পিঠা ক্রেতারা জানালেন, শহরের বিভিন্ন এলাকাতেই পিঠা ভেজে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বেগুনী খালার পিঠার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো। তাই বন্ধু-বান্ধবরা একত্র হলেই এদিকটাই চলে আসি পিঠা খেতে। এছাড়া, এখানকার পরিবেশও ভালো। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং পিঠা খাওয়া দুটোই একসঙ্গে হয়ে যায়।

বেগুনী খালার স্বামী মো. ইদ্রিস ব্যাপারী বলেন,  এখানে ২০ রকমের পিঠা তৈরি হয়। তবে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, মিষ্টি তেল পিঠা ও ডিমের ঝাল পিঠার চাহিদা বেশি। পিঠার উপকরণের দাম বাড়লেও তারা এ মৌসুমে বেশ ভালো বিক্রি করে থাকেন। আয় মন্দ হয় না।

বগুড়ার সাতমাথা, ইয়াকুবিয়া মোড়, মফিজ পাগলার মোড়, কোর্ট হাউস স্ট্রিট, জলেশ্বরীতলা শহীদ আবদুল জব্বার সড়ক, জেলখানা-সংলগ্ন লাবাম্বা মোড়, বকশিবাজার মোড় এবং পাড়া-মহল্লার মোড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানে শীতের হরেক গরম গরম পিঠা তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে। পিঠা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শীতের সময় মৌসুমি এসব পিঠার অন্য রকম কদর ক্রেতাদের কাছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম