জয় হোক শ্রী অর্থাৎ সৌন্দর্যের জয় হোক। এই লাইনটি নিয়ে ভাবনার সড়কে হাঁটাহাঁটি করেছি কয়েকদিন। বারবার পড়েছি সৌন্দর্যের মোহময় ঘোরে। চিত্রকল্পে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে একজন, কল্পিত আখ্যান উঁচিয়ে ধরে আসছে আমার দিকে। মুহূর্তে সত্য ও সুন্দরের জয়ধ্বনি দিতে দিতে হেঁটে গেলাম, মিলিয়ে গেলাম আগামী ভোরে উদিত হবো বলে; - এমনসব স্বপ্নের নকশা তৈরি হয়েছে জয়শ্রী দাসের লেখা পড়ার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায়। সম্প্রতি 'দেশ ও একটি জঠরের মৃত্যু' উপন্যাসের মাধ্যমে জয়শ্রী দাসের লেখা পড়ার দ্বারে উপস্থিত হয়েছি। এই উপন্যাসে একটি ইস্যু বা কারণকে বিভিন্ন কারণে বাহিত করে কিছু চমৎকার মেসেজ দিয়ে গেছেন। জয়শ্রী দাস গল্প বলার চেয়ে গল্প নিয়ে গল্প করার দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। ছোট ছোট খোপে ঢুকিয়ে রেখেছেন কল্পিত চরিত্রের ভাব-বোধ হঠাৎই চমকিয়ে দেওয়ার মতোই। জয়শ্রী দাসের ভাষার টিউনিংটা চমকপ্রদ, এখানেই তিনি স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে আনেন সমাজের কথা, রাষ্ট্রের চাহিদার কথা। এমনকি ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা ধর্মের আবেগকেও খুঁচিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি সরলতার মধ্যে সুন্দরের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিশনটাই ভবিষ্যৎ বলে চেয়েছেন; গল্প বলার ঢঙেই ইতিহাসের ছবক দিয়ে গেছেন জয়শ্রী দাস এই উপন্যাসে। স্মার্ট শব্দের স্পন্দনে ইতিহাসকে রসালো আর গীতল স্পর্শে জয়শ্রী দাসের ভাষার অতলান্ত মোহিত করে; ইতিহাস রসকষহীন কাঠখোট্টা নয়, হাসি রোমাঞ্চও থাকবে, বিরহও গলাগলি দেবে, সন্দেহও গলা খাঁকারি দেবে। এসব আমি বুঝতে সক্ষম হলাম এই উপন্যাসটি পড়ার মাধ্যমে। 'দেশ ও একটি জঠরের মৃত্যু' উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়কে তুলে ধরেছেন আন্তরিক শব্দ-বন্ধনে; এমনকি তারিখ পর্যন্তও উল্লেখ করেছেন অথচ ভাব বোধের কৌমার্য ভাঙেনি এতটুকু, টলমলে সারল্যে বক্তব্যের সুগভীর স্ফটিকে সৌন্দর্য ভাষার গাঁথুনিতে ঝলমল করছে। এটি অন্তস্থ অনুশাসন নিজের আবেগের সাথেও জয়শ্রী দাসের, সত্যিকারের লেখকের এখানেই বাহাদুরি...
'দেশ ও একটি জঠরের মৃত্যু' উপন্যাসের মূল চরিত্র সৈয়দ মাহবুবুল বাসিত তুলি। ডাকনামে অর্থাৎ এই উপন্যাসে একটি কন্ঠস্বর যেদিক গিয়েছে উপন্যাসের আবহ সেদিকে মোড় ঘুরেছে। যেটাকে বলে মূল চরিত্র। নায়ক। উপন্যাসের শুরুতে কয়েক পৃষ্ঠায় মনে হয়েছে এটি কিশোরদের নিয়ে উপন্যাস। তুলির বালকবেলার কথন। তুলির মায়ের মৃত্যু যখন তাঁর বাবা পর্যন্ত চল্লিশ বছরের তরুণ। তুলির মায়ের মৃত্যুর পরে আর বিয়ে করেননি, হয়তো নিজের জৈবিক আচরণ দমানোর জন্য তাবলীগে চলে গেলেন। হঠাৎ উদাস হয়ে গেলন। এক কথায় সংসার বিরাগী। তখন পরিবারের সবচেয়ে ছোটজন তুলিসহ অন্য দুই ভাই আর একমাত্র বোন মধ্যবিত্তের দুর্বিপাকে পতিত হয়। তুলির সেই সময়কার কথা তুলে ধরতে ঔপন্যাসিক বলেন -
তুলিদের বাড়ির পূর্বধারে, আম গাছটাতে আমের মুকুল ধরেছে এবার। আমের মুকুলের মনমাতানো একটা গন্ধ আছে। তুলি আম গাছে উঠে বসে থাকে। চারদিকে কেমন বিচিত্র পোকার ডাক। ফর্সা টুকটুকে তুলি চোখ মুছতে মুছতে বলে- মা তুমি কোথায়? '
জয়শ্রী দাসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে জাজমেন্ট আর ফাঁকফোকরে এর মাল-মসলা ঢুকিয়ে আঙ্গিককে আলোকপাত করেন অনবদ্য সহনীয় পর্যায়ে; তুলির স্কুলে মোস্তফা, গজনা, সলিল ও তুলি চারজন বন্ধু। একদিন চারজন মিলে সলিলের বাড়ি যায়। সলিলের মায়ের কপালে সূর্যের মতো জ্বলজ্বল করা বড় সিঁদুরের ফোঁটা। অভুক্ত তুলি কতদিন ভালোমন্দ খেতে পারেনি, মা নেই, সেই তুলি সলিলের মায়ের হাতে মাছের ঝোল পর্যন্ত খেয়েছে চেটেপুটে! মায়ের পথই যে একমাত্র সৎ পথ, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সেটি বুঝিয়ে দিয়েছেন আন্তরিকতায়। মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয় এই কথাটিই সত্য প্রমাণিত করেছে ঔপন্যাসিক এই উপন্যাসে, পুরো জাতির দাসত্ব থেকে মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস উল্লেখের মধ্যেও; উপন্যাসের শেষের দিকে মানুষের জয়গান উচ্চকিত করেছেন। তুলি যুদ্ধের সময় তাবলীগ জামাতের দলের সাথে দাড়ি রেখে হুজুর সেজে ঢাকা ত্যাগ করার সময়। সেই তাবলীগ জামাতের আমীর তুলিকে চিনে ফেললেন এরপরও অভয় দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- আচ্ছা সৈয়দ সাহেব যিনি আপনার পাশে বসে আছেন তাঁর নাম জানেন?
- না
- উনার নাম নিকুঞ্জ চক্রবর্তী, আমার ছোটবেলার শিক্ষকের ছেলে। উনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে চায়। আপনি বুদ্ধিমান লোক। যে করেই হোক আপনি তাকে সীমান্ত পার করে ইন্ডিয়া পৌঁছে দেবেন।'
তুলি সেই কথাটিই রাখলেন। তাবলীগ জামাতের দল থেকে নিকুঞ্জ আর তুলি আলাদা হয়ে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ বর্ডারে এলে তুলি ধরা পড়ল। তুলি ধরা পড়ার কারণ আগের নৌকায় নিকুঞ্জকে তুলে দিয়ে পাড়ে পরের নৌকার জন্য অপেক্ষা! নৌকার জন্য অপেক্ষারত তুলির ভাব তুলে ধরলেন ঔপন্যাসিক এইভাবে-
এবার বরিশাল থেকে স্টিমারে করে তুলি আর নিকুঞ্জ চক্রবর্তী রওনা হলো খুলনার উদ্দেশ্যে। খুলনা থেকে সাতক্ষীরা। এ সময়ে বুকের মধ্যে তুলির শুধু একটা নামই গুঞ্জন করছিল- মহসিনা,মহসিনা... শুধু একটা বার শুধু একটা বার যদি সে তার হাতটা একটু ছুঁতে পারতো। পেটের উপরে একটা চুমু দিয়ে যদি বলতে পারত যেই আসুক তাকে ভালো রেখ। '
দেশ বলি বা মা বলি আমরা এক। অভিন্ন। তুলি নিজের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে নৌকায় আগে চলে যেতে পারত নিকুঞ্জকে রেখে। সমূহ বিপদ জেনে কাপুরুষ হতে পারত। কিন্তু নিজের জঠরের সেই সন্তান একটি দেশ, দেশের মুক্তি; যখন তুলি পাকিস্তানি আর্মির ক্যাম্পে অসহনীয় মৃত্যুর পূর্ববর্তী যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, যেই দাড়ি মুসলমানের চিহ্ন বলে অনেকে আগ বাড়িয়ে উন্মাদ হয় সেই দাড়ি টেনে টেনে ছিঁড়ছিল, গোঁফও টেনে পৈশাচিক আনন্দে মেতেছিল পাকিস্তানিরা। সহসাই জেনে যায় তুলির গ্রামের পরিবারের বৃত্তান্ত। সুন্দরী বউ মহসিনার কথা। সেই মহসিনার কাছে ঝাপিয়ে পড়ে নিজেদের মস্তিষ্কজাত বর্বরতা দাপিয়ে, মহসিনার দেহ খণ্ডবিখণ্ড করল। এভাবেই একটি জঠরের মৃত্যুতে একটি দেশ, এই দেশের মুক্তি....
উপন্যাসের শুরুতে কিছু চটুল প্রেমের কথা আছে। পরিবেশও বেশ ফুরফুরে মেজাজের তুলির নানান টানাপোড়েনেও; ছোটবেলার বন্ধু মোস্তফা ও লতার প্রেমের কথা বলতে পারি। তখন তারা সবে ক্লাস টেনের ছাত্রছাত্রী। একদিন আমবাগানের ঝোপে দেখা করতে গিয়েছে মোস্তফা আর লতা, তুলিসহ অন্য বন্ধু পাহারা দিচ্ছে। হঠাৎ পণ্ডিতমশায় হরনাথ চক্রবর্তী সেই আমবাগানোর দিকে যাচ্ছে এবং পন্ডিমশায় যখন পেট মোচড়িয়ে গ্যাস ছাড়লো অমনি লতা দিল হেসে। এরপর কেলেংকারী, বিচার সালিশ। সেই সালিশের শর্তে হুট করে বিয়ে হল মোস্তফা আর লতার। এইরকম করে কলেজ জীবনে এসে ঘটল তুলি আর মহসিনার প্রেম বাঁধন। মহসিনা তুলির কলেজে বাংলার অধ্যাপক আনিস স্যারের মেয়ে। এদের মধ্যে প্রেম শুরু হলে উঠতি বয়সী মেয়ের মনস্তাত্ত্বিক বিচলনে বাবার মর্জির রেখাপাতন দেখি। কীভাবে দোতলায় মেয়ের পড়ার টেবিলে দোলনচাঁপা ফুল এসে গন্ধ বিলোয় পুরো বাড়িজুড়ে, এটি বাংলা সাহিত্যের আনিস স্যারকে মুহূর্মুহু ভাবনায় রাখে। এরমধ্যে তুলি এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেই কলেজে রাজনীতির স্লোগানে মুখর। একদিন মহসিনার সাথে প্রেম ঘটনের মধ্যেই মিছিল নিয়ে আনিস স্যারের ক্লাসের দিক দিয়ে গেছে। সেদিন আনিস স্যার ডাকলেন। তুলি এই ডাকে বেশ ভয়ার্ত ছিল। ডাকসাইটে ছাত্রনেতা হলেও তুলি একজন প্রেমিক, তদুপরি আনিস স্যারের মেয়ের প্রেমিক....
আনিস স্যারের মুখোমুখি হয়ে নিজের লেখাপড়ার বিষয়ে হুশিয়ারি শুনেও ক্ষান্ত হয়নি তুলি। অবলীলায় জানালেন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ উৎপীড়নের কথা। একেবারে ইতিহাসের মোদ্দা কথা সব। একজন প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার বাবার সম্মুখে, তিনি যদি আবার নিজ কলেজের শিক্ষক হন, এইসব পরিচয়ের মধ্যে রাজনীতির প্রেক্ষিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনের কথা বলা জয়শ্রী দাস এইসব দাপটে সামাল দিয়েছেন। উপন্যাসে এই প্রেম যুগলেরও মোস্তফা আর লতার প্রেমের মতোন হুট করে বিয়ে হয়ে যায়। যখন মেয়ের টেবিলে দোলনচাঁপা কোত্থেকে কীভাবে আসে জেনে যায়। যখন সবসময়কার মতো মহসিনার ভাই বাবাই এর মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদানের মধ্যে সেই চিঠিটাসহ বাবাই আনিস স্যারের হাতে ধরা পড়ে, ছোট চিঠিটা এইরকম-
আমার মনা,
তোমার সুন্দর হাতখানি ধরে সারাদিন বসে থাকতে ইচ্ছে করে।
ইতি তোমার
তুলতলা চড়ুই পাখি'
হঠাৎ বিয়ের আয়োজন করে ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলের সাথে, কিন্তু সেখানে দলবল নিয়ে তুলি হাজির। তুলির প্রেম নিবেদনের উপস্থাপনে উপস্থিত বরের চোখেও জল, এই দৃষ্টান্ত বিরল এবং সেই দৃশ্যে তুলি আর মহসিনার বিয়ে হয়। এই উপন্যাসের প্রেমগুলোর পরিণতি বিয়ে ব্যাপারটি দ্রুত ঘটে গেছে। প্রেমের যে গতিতে দুশ্চিন্তায় টলমলানি নৌকার মতোন, প্রেমে পড়ে যেন বিলকুল সাঁতার ভুলে গেলেন, এইরকম অস্থিরতায় হয়তো ঔপন্যাসিক রাখতে চাননি। কেননা ঔপন্যাসিকের ভাবনায় দেশ স্বাধীন হওয়ার সে ইতিহাস বলে যাওয়া বুঝি...
০২.
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই তুলি আর মহসিনার বিয়ে হয়। তুলির বাবাও সানন্দে তুলে আনেন ঘরে। একমাত্র মেয়ের বিয়ের পরে ঘরে বলতে গেলে তুলির বাবা একা। তুলির বড় দুই ভাই বিয়ে না করলেও যে যাঁর লেখাপড়ায় ব্যস্ত ঢাকা শহরে। এমতাবস্থায় ঘরে মহসিনা আসাতে খুশি বয়ে গেল। এইচএসসি পাস করার পরে তুলির বাবা একরকম বুঝিয়ে সুঝিয়ে সাতক্ষীরার মফস্বল শহর ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য পাঠালেন। সেখানেও তুলির একটাই চিন্তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তির সংগ্রাম। মহসিন হল প্রতিষ্ঠার পরে আবাসিক ছাত্রদের জন্য যে বছর খুলে দেওয়া হয় অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে তুলি ৫৩৩নং রুমে ডাবল সিট পায়। এরপরে সে হলের দোতলায় ২৬৪ নং রুমে। ঔপন্যাসিক এবার আনলেন ২৬৩ নং রুমের কথা। যেটি কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার রুম। সেই রুমে তখন নির্মলেন্দু গুন, সেলিম আল দীনসহ আরও অনেক কবি সাহিত্যিক যেতেন। ঔপন্যাসিক এখানেও আন্তরিক ভাষ্যের ছাপ স্পষ্ট করলেন। এরপরে বাঙালি হয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বিরোধী চক্র এনএসএফ বাহিনীর অত্যাচারের কথা সুনিপুণভাবে তুলে ধরলেন। ১৯৬৯ সালে হলের ছাত্রলীগ সংসদের নির্বাচনে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ও তুলি একই সাহিত্য সম্পাদক পদে অংশগ্রহণ করলেন। সেখানে তুলি নির্বাচিত হয়। কিন্তু তুলির মনে কিছুটা খামচি দিয়েছে এই সাহিত্য সম্পাদকের পদে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদাই যোগ্যই ছিলেন। কিন্তু তুলি করে রাজনীতি আর কবি লেখেন কবিতা। এটাই বুঝি বাস্তবতা। এরপরে ১৯৭০ সালে উপকূলে আঘাত হানা সাইক্লোনে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের চমৎকার আলোকপাত দেখতে পাই। এরপরে যুদ্ধের দামামা। যুদ্ধে তুলি শুধু শহীদ হননি মহসিনা, তুলির বাবাও শহীদ হন। মহসিনার পেটে যে অনাগত সন্তান ছিল, একজন প্রেমিক যে পেটে চুমু খেত অপার আনন্দে, সেই জঠরের মৃত্যু উপন্যাসটি পড়তে পড়তে চুপচাপ নিজের অজান্তেই রক্তক্ষরণ ঘটাবে....
'দেশ ও একটি জঠরের মৃত্যু' উপন্যাসটি তেমন বড় কলেবরের নয়, কিন্তু মূল কথাগুলো উঠে এসেছে। এই উপন্যাসটি এখনকার পাঠকরা পড়লে যুদ্ধের কথা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারবে শুধু নয়, দেশ নিয়ে কোনো যড়যন্ত্র অথবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করার মন মানসিকতা তৈরি হবে না বলে বিশ্বাস....
সবশেষে মনে দাগ কেটে আছে, তুলি যখন শহীদ আসাদের রক্তাক্ত লাশ বুকে নিয়েছে, সেই দৃশ্যের মুহূর্মুহূ কষ্ট ভুলতে স্ত্রী মহসিনার কাছে ছুটে গিয়েছিল। দুইদিন পরে দেশ স্বাধীন করার লালিত স্বপ্নের ঘোরে ঢাকায় ফিরে আসার সময়টায় তুলি কী আকুতিতে মহসিনার গালে নিজের ঠোঁট লেপ্টে লেপ্টে দিচ্ছে! সেই একই দৃশ্যের অন্য ঘটনাটি- যখন হলে ছাত্রলীগের উপ দুটি দলে মারামারিতে তুলি আহত হয়, তখন বঙ্গবন্ধু তুলির গালে এমনও আদর দিয়েছিল....
এই আদর দুটি দুই রকমের, কিন্তু আবেগ অস্তিত্ব প্রমাণ করতে 'দেশ ও একটি জঠরের মৃত্যু' উপন্যাসের সারবস্তু বোঝাতে ঔপন্যাসিক উৎরে গেছেন এখানে অনন্য উচ্চতায়....
জয়শ্রী দাস, লিখতে থাকুন...
