সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ভরসা পাইলেই বিনিয়োগ ছুটিয়া আসিবে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩০

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ একে অপরের পরিপূরক। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, থাইল্যান্ডের দিকে লক্ষ করিলে দেখা যায়, তাহাদের উন্নতির পিছনে অন্যতম কারণ বিদেশি বিনিয়োগ। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করিয়াছে চীন, জাপান, ভারত ও রাশিয়া। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রতি বছর যোগ হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারে, যাহা বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করিতেছে। ইহার পরও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যাত্রা ত্বরান্বিত করিতে এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করিতে বাংলাদেশের উত্পাদন খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের উত্পাদন খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখিতে পারে। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাইয়াছেন। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইহা যথার্থ ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।

প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের উত্পাদন খাতে বিনিয়োগ শুরু করিলে, তাহা নিঃসন্দেহে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখিবে। তাহাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকারখানা গড়িয়া তোলা সম্ভব হইলে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হইবে এবং দেশের জনগণের আয়স্তর বৃদ্ধি পাইবে। ইহা ছাড়াও উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর হইবে। কিন্তু আমাদের দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় অধিকাংশ সময় দেখা যায়, তাহারা দেশে বিনিয়োগ করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। ইহার যথার্থ কারণও রহিয়াছে। জ্বালানিসংকট, ব্যবসায় সহজীকরণে পিছাইয়া থাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, তথ্যের ঘাটতি প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একপ্রকার প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করিতেছে। একটা শিল্পকারখানা চালাইবার প্রধান উপকরণ হইল নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায়, পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বিভিন্ন কলকারখানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখিতে হয়। লম্বা সময় ধরিয়া মেশিন বন্ধ থাকার কারণে আকাঙ্ক্ষিত উত্পাদন তো সম্ভব হইতেছেই না, তাহার পাশাপাশি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হইতেছে এবং সর্বাত্মক ব্যয় বাড়িয়া যাইতেছে। যাহার ফলে বিনিয়োগকারীর জন্য মুনাফা অর্জন কষ্টসাধ্য হইয়া যায়। এই সমস্ত ফ্যাক্টর আমাদের দেশে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করিতে অনিচ্ছুক করিয়া তোলে।

প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য ও শ্রমের সহজলভ্যতার কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনার খাত রহিয়াছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রহিয়াছে এই দেশের তৈরি পোশাকের বিপুল চাহিদা। ইহার ফলে আমাদের দেশে পোশাক খাতে বিনিয়োগের জয়েন্ট ভেঞ্চারের সম্ভাবনা বাড়িতেছে। তাহা ছাড়াও বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প বিনিয়োগের জন্য এক বিপুল সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমান বিশ্বে পর্যটন সবচেয়ে লাভজনক ও গতিশীল খাত। অসংখ্য দর্শনীয় স্থান থাকিবার পরেও বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বেশ পিছাইয়া রহিয়াছে। যাহার ফলে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকৃতি প্রদত্ত উপকরণকে রূপান্তরের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বানাইয়া উপস্থাপন করিয়া ও পর্যটন স্পটগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ আয় করা সম্ভব। সকল কিছু মিলাইয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের খাত রহিয়াছে অসংখ্য। এখন প্রয়োজন শুধু অনুকূল পরিবেশ।

পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করিয়া, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, দক্ষতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করিতে পারিলে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দেশে বিনিয়োগ করিতে উদ্বুদ্ধ হইবেন। বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য বৃহত্ বিনিয়োগকারীদের শনাক্ত করিয়া ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়া সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা সহজীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন