বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাবি আবাসিক হলের ছাদ ধ্বসের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের ৪ দিন পর চিঠি ইস্যু

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান আবাসিক হলের অডিটরিয়াম ভবনের সাটারিংসহ ছাদের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের ৪ দিন পর রোববার (৪ ফেব্রুয়রি) দুপুরে কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। 

গত ৩০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ঘটনার দিন রাতে জরুরি বৈঠকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান জানান, শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান হলের নির্মাণাধীন অডিটরিয়াম ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠির বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকার কথা বলতে রাজি হননি। তবে কমিটির সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান বলেন, তার কাছে এখনো চিঠি পৌঁছেনি।

এদিকে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনায় কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। 

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার জানান, ধসে পড়া ভবনে কাঠের অংশের কাজ চলবে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২৫ জন কাঠমিস্ত্রি আনা হয়েছে। তাদের কাজ চলমান থাকবে। তদন্ত শেষে সিভিল অংশের কাজ নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

গত ৩০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের সামনে নির্মাণাধীন শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের অডিটরিয়ামের ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় নয়জন শ্রমিক আহত হন। ওই দিন রাতেই জরুরি সভায় ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে ঘটনার চার দিন পর রোববার দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

জানা যায়, ১০ তলা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান আবাসিক হল ও ২০তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ করছে রূপপুরের ‘বালিশ-কাণ্ডে’ বহুল আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দুই ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুটি ভবনেই কাজ করেছে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

ইত্তেফাক/পিও