রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বইয়ের গল্প শোনান ইসমাম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:২০

এখনকার সময়ে তরুণ-তরুণীদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই ডিজিটাল কন্টেন্ট ও ভ্লগে মেতে থাকে। অনেকেই তৈরি করে ফুড ভ্লগ, ট্যুর ভ্লগ, কিংবা বিচিত্র নানা জিনিস নিয়ে কন্টেন্ট। তবে বই নিয়ে এধরনের কাজ খুব একটা চোখে পড়ে না বললেই চলে। সেই কাজটিই করছেন বিশ্ববিদ্যালয়-ভর্তিচ্ছু তরুণী ইসমাম জাহান। 'প্রজেক্ট নাইটফল'-এর অনুকরণে নিজের ফেসবুক পেজের নাম দিয়েছেন 'প্রজেক্ট কুইন'। সেখানে তুলে ধরছেন বিভিন্ন লেখকের বইয়ের রিভিউ।

বছর তিনেক আগেও নিয়মিত বই পড়তেন না ইসমাম। করোনায় ঘরবন্দী সময়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে একটা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেন। শুরুতে সেখানে আবৃত্তির ভিডিও আপলোড করতেন। পরে ভাবলেন, কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে হলে বই নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।

তবে শুরুতে অনেকেই তাকে বলতেন, এখন আর কেউ বই পড়ে না। তাই তুমি বই নিয়ে কাজ করলে দর্শক পাবে না। কিন্তু ইসমাম এতে বিশ্বাস করেন না। তিনি মনে করেন, কেউ যদি কোনোকিছুকে নতুন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে, তবে অবশ্যই তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এখন ইসমামের ভ্লগ দেখে বই-বিমুখ অনেকেও বইয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

আলাদা বা নির্দিষ্ট কোনো ধাচের বই নয়, ইসমাম চেষ্টা করছেন বিভিন্ন জনরার বই পড়ে ভেতরে কি আছে সেটা বোঝার। কবিতার বই, থ্রিলার, রোমান্টিক থ্রিলার বা হরর ধাচের বই উপভোগ করছেন তিনি।

বই নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করতে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে ইসমাম বলেন, প্রথমদিকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটি করলেও আস্তে আস্তে মানুষের ভালোবাসা আমার এই জার্নিটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বই পড়লে মন ভালো থাকে। একাকীত্ব দূর হয়।

ইসমাম বলেন, শারিরীকভাবে আমি অন্য অনেকের চেয়ে স্থূল হওয়ায় প্রায়ই কটূ কথা শুনতে হয়। অনেকেই বাজে মন্তব্য করে বসে। কিন্তু আমার সহপাঠী ও পরিবারের সমর্থনে আমি ইতিবাচক কাজ করার শক্তি পেয়েছি। ভ্লগিংয়ের ভবিষ্যত পরিকল্পনা  প্রসঙ্গে ইসমাম বলেন, 'আমার পছন্দের বইগুলো রিভিউ করছি বলে সেগুলো মানুষ না বুঝেই কিনত। তাই আমার মনে হয় সেই বইগুলো নিয়েও আমার কথা বলা উচিত যেগুলো আমার ভালো লাগে নি। বাচ্চারা পছন্দ করে যেগুলো, সেগুলো নিয়েও কাজ করব। দেশে নতুন নতুন বুক ক্যাফে হচ্ছে, সেগুলো দেখব। কম দামে বই কোথায় পাওয়া যায় সেগুলোর খোঁজ দেবো।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন