বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাবিতে ১৩১ শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত: এক জনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৩১ শিক্ষার্থী ১৭ দিনে হেপাটাইটিস ‘এ’ বা জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাবি মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩১ শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুরাদ মৃধা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামে। তিনি (মুরাদ) বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুরাদের মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি তার (মুরাদের) মৃত্যুর কারণ জানি না। তবে তার বিভাগের চেয়ারম্যান এবং একজন সহকারী প্রক্টর আমাকে ডেঙ্গুতে মুরাদের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হেপাটাইটিস ‘এ’ বা জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৭ দিনে ১৩১ শিক্ষার্থীর জন্ডিস সংক্রমণের বিষয়টি বুধবার শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনস্থ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সভায় উঠে আসে। সভায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে জন্ডিস সংক্রমণ রোধে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ক্যাম্পাসে জন্ডিস সংক্রমণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো, আবাসিক হল ও মেসসমূহে এবং ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। এছাড়া সাবমার্সিবল পাম্প থেকে পরিষ্কার পাত্রে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ ও পরিষ্কার গ্লাসে পান করা; নিজ বাসস্থান ও খাবারের স্থান পরিষ্কার রাখা; আক্রান্ত না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে টেস্ট করা এবং প্রয়োজনে টিকা গ্রহণ করা; হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস বা জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ গ্রহণ; ক্যাম্পাসে ও সংলগ্ন এলাকায় খাবার পরিবেশনকারী দোকানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা।

অন্যদিকে বুধবার দুপুরে একই বিষয়ে উপ-উপাচার্যের (প্রশাসন) সঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষবৃন্দের পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অধিকতর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

শিক্ষার্থী মুরাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিতর্ক: রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহমেদ জানান, হাসপাতালের নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত মুরাদ কিডনি বিকল হয়ে মারা যান। তিনি আরও জানান, তার মৃত্যুর কারণ জন্ডিস ও একিউট কিডনি ইনজুরি বা একেআই। কিডনিতে সরাসরি আঘাত নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এই ইনজুরি হতে পারে। মুরাদ গত ২৫ জানুয়ারি জন্ডিস নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও জানান হাসপাতালের পরিচালক। তিনি বলেন, মুরাদ ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হননি। তার ডেঙ্গু ধরাও পড়েনি। হেপাটাইটিস ও কিডনি ফেল দুটি রোগ ছিল একসঙ্গে। হেপাটাইটিসের সঙ্গে জন্ডিজ থাকে। হেপাটাইটিস ও কিডনি সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো জানান, হেপাটাইটিস নিয়ে প্রথমে লিভার ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর দেখা গেছে তার কিডনিতে সমস্যা আছে। ঐখান থেকে তাকে কিডনি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। মৃত মুরাদের রুমমেট আবু নাইম খান বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি ছাত্রাবাসের খাবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মুরাদ শাহ মখদুম হলে খাওয়া শুরু করেন। পরে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তার জ্বর এলে তিনি বাড়ি চলে যান। তবে মুরাদের বাবা আবদুস সাত্তার মৃধা বলেন, মুরাদ বাসায় আসার দুই দিন পর জ্বর আরো বাড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তিনি বলেন, তিন দিন পর মুরাদের ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরে ২৫ জানুয়ারি তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম