সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকৃতিতে নান্দনিক হলদে আভা ছড়াচ্ছে রূপবান সূর্যমুখী

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৫

প্রকৃতিতে অসাধারণ রূপবান উদ্ভিদ সূর্যমুখী। এ ফুলের নান্দনিক হলদে আভায় মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সূর্যমুখী হাসে, আর তার হাসিতে প্রকৃতি অপরূপ রূপে সাজে। তাই সূর্যমুখী শুধু ফুলই নয়, এটি একদিকে সৌন্দর্য্য পিপাসু মানুষের সৌন্দর্য্যরে তৃষ্ণা মেটায়, অন্যদিকে এটি একটি উৎকৃষ্ট মানের তেলবীজ ফল হিসেবে কাজ করে থাকে।  

ঈশ্বরদীর মতো সূর্যমুখী ফুলের এতো বড় আকারের বাগান আগে পাবনা জেলার আর কোথায় দেখা যায়নি। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মাঠে সীডের জন্য ৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখীর হলুদ আভায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। 

তাই দিনভর সূর্যমুখী বাগানে ভিড় করছে ফুলপ্রেমীরা। সূর্যমুখী দেখতে আসা দর্শনার্থী তমালিকা জাহান বলেন, শহরের ঘরবন্দী থেকে একটু মুক্ত হাওয়ায় বেড়াতে ও বাগান ভরা ফুল দেখতে এখানে আসা। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব সুন্দর লাগছে। তাই সবাই মিলে এ মনোরম দৃশ্য ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করছি।

ছবি: ইত্তেফাক

কৃষি অফিস জানায়, ঈশ্বরদীর মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যমুখী ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে সাত মণ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। আর বিঘায় তেল উৎপাদন হবে ১৪০ লিটার থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের বাজার মূল্য ২৫০-৩০০ টাকা। বিঘাতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের। তবে সমস্যা একাটাই টিয়া পাখি ও কাঠবিড়ালির উৎপাত। টিয়া ও কাঠবিড়ালি সূর্যমুখীর বীজ খেয়ে ফেলে। যে কারণে দিন-রাত পাহারা দিতে হয়। এ জন্য কৃষক পর্যায়ে আগ্রহ কমছে।  
দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান আঞ্চলিক 

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের স্টেশন ইনচার্জ ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলতাব হোসেন। তিনি বলেন, সূর্যমুখী বীজ থেকে আমরা উৎকৃষ্টমানের ভোজ্য তেল পেয়ে থাকি। দেশের মোট আবাদযোগ্য জমির ৭৫ ভাগে ধান চাষ হয়। আবাদযোগ্য জমির শতকরা তিনভাগ জমিতে তেল চাষ হয়। চাহিদা মতো তেল জাতীয় শষ্য চাষ হচ্ছে না। চাহিদার মাত্র দশ ভাগ ভোজ্যতেল আমরা উৎপাদন করতে পারি। নব্বইভাগই বিদেশ হতে আমদানি হয়। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য আমরা সূর্যমুখীর প্রজনন বীজ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ঈশ্বরদীতে পাঁচ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর প্রজনন বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করেছি। এখান থেকে উৎপাদিত বীজ আমরা বিএডিসিকে সরবরাহ করবো। বিএডিসি তাদের কৃষি জমিতে এবং সংযুক্ত কৃষকদের মধ্যে এ বীজ বন্টন করবে। বারি-৩ জাতের নতুন সূর্যমুখী ফুলের ব্যাপক আবাদের মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি মেটাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদোনা দেওয়া হয়েছে। সাত বিঘায় আবাদ হচ্ছে। সূর্যমুখী ফুলের তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন-ই থাকায় মেয়েদের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ ও ত্বকের উজ্জলতার জন্য খুবই উপকারিতা রয়েছে। এ জন্য জাতটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ঈশ্বরদীতে সূর্যমুখী চাষের বিস্তারে নানাভাবে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি। তবে সমস্যা হলো টিয়া পাখি ও সূর্যমুখীর বীজ খেয়ে ফেলে। যে কারণে দিন-রাত পাহারা দিতে হয়। না হলে উৎপাদন ব্যাপক কমে যায়। যে কারণে কৃষকরা তেমন আগ্রহ দেখায় না।   

ইত্তেফাক/পিও