বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

টিসিবির পণ্য বিতরণে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ 

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০৮

রাজশাহীর বাঘায় বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) পণ্যের সুষ্ঠ বিতরণ নিয়ে আবারও উপজেলার বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী অফিসারের নিকট এই অভিযোগ করেন বাউসা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মো. আলম হোসেন। একই অভিযোগে গত বছরের ১০ অক্টোবর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও তাকে অবরুদ্ধ করে টিসিবির কার্ডধারী শত-শত মানুষ। 

জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ১৮০০ কার্ডধারীদের মধ্যে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কার্ডধারী বৈধভাবে টিসিবি সুবিধা ভোগ করছেন। বাকিরা বিভিন্ন অজুহাতে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অভিযোগ আছে, তাদের কাছ থেকে কার্ড  নিয়ে রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ। বিশেষকরে, নির্বাচনে তাকে ভোট না দেওয়া ভোটার এবং অপছন্দের ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) তালিকাভুক্ত কার্ডধারীরা গত দুই-তিন মাস টিসিবির পণ্য না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ওই এলাকার হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্ব ও বিধবা ভাতা কার্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে উৎকোচ নিয়েছেন। এছাড়াও এক ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা অন্য ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করাসহ বহু ব্যক্তির নামে দুটো তালিকা করেছেন। 

তবে চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মুঠোফোনে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, আমি কারো কাছে কার্ড বেচে খাইনি। আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে টিসিবি কার্ড তৈরিতে কিছুটা অনিয়ম ছিল। এ কারণে কার্ড জমা নিলেও পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছি। তিনি অভিযোগকারীকে গালাগাল দিয়ে বলেন, ওর বাবার কিছু নেই। সে নেতা হওয়ার জন্য অহেতুক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বের নির্বাহী অফিসার থাকতে ঐ পরিষদে টিসিবি সংক্রান্ত একটি ঝামেলা হয়েছিল এমনটি লোকমুখে শুনেছি। বর্তমানে আমার কাছে যে  অভিযোগ এসেছে, সে বিষয়ে তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টিসিবির পণ্য দেওয়ার সময় বাউসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফান ঐ ইউনিয়নের অধীন ২২৬ জন হত-দরিদ্রের কাছ থেকে তাদের ছবি সংযুক্ত কার্ড নিয়ে নেন। এরপর পরবর্তী মাসের ১০ তারিখ সকাল ১০টায় চেয়ারম্যান তার একক সিদ্ধান্তে পছন্দের ইউপি সদস্য ও নিজস্ব লোকদের হাতে তার স্বাক্ষরিত একটি করে স্লিপ ধরিয়ে দেন। এর ফলে যাদের নামে কার্ড হয়নি এমন ব্যক্তিকরাও পণ্য উত্তোলন করেন। ঘটনার একপর্যায় চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করাসহ তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও