সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নতুন ট্র্যাকে পুরোনোরাই

ইমরানুরের ৪, শিরিনের ১৫

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩২

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ এখনও শেষ হয়নি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বার বার বলছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। এরই মধ্যে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক স্থাপনের কাজ আরও আগেই শেষ। গতকাল জাতীয় অ্যাথলেটিকস দিয়ে নতুন ট্র্যাকের যাত্রা শুরু হলো। ফটো ফিনিশিং ছিল। হ্যান্ড টাইমিংয়ে যারা দ্রততম মানব-মানবী হয়েছিলেন সেই ইমরানুর রহমান এবং শিরিন আক্তার ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতেও দেশের দ্রুততম মানব-মানবি হয়েছেন। ইমরানুর সেনাবাহিনীর এবং শিরিন নৌবাহিনীর।

শিরিন আক্তার এবার নিয়ে ১৫ বার দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন। টানা হতে পারেননি তিনি। বললেন, ‘মাঝে একবার পাইনি। তা না হলে টানা ১৫ বারের রেকর্ড হতে পারতো। ২০০২ সালে সালে সুমাইয়া দেওয়ানের কাছে মুকুট হারিয়ে ছিলেন শিরিন। সবচেয়ে বেশি জয় আছে নামজুন নাহার বিউটি, ১৭ বার দ্রুততম মানবী হয়েছেন তিনি। গতকাল ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শিরিন সময় নিয়েছেন ১২.১১ সেকেন্ড। 

এই সময় নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট না, কারণ রেকর্ড ভাঙ্গতে পারলে ভালো লাগতো বললেন মিরিন। তিনি বলেন আমার আগের রেকর্ড রয়েছে ৯.০৫ সেকেন্ড।’ গতকালও সেই শিরিনকে হারাতে ট্র্যাকে নেমেছিলেন সুমাইয়া দেওয়ান। টার্গেট ছিল এবার তার কাছ থেকে মুকুট ছিনিয়ে আনবেন। কিন্তু সুমাইয়া হেরে গেলেন শিরিনের কাছে। সুমাইয়ার টাইমিং ছিল ১২.২৯ সেকেন্ড। তৃতীয় হয়েছেন যশোরের সামিয়া আক্তার সাথী, তার টাইমিং ১৪.০১ সেকেন্ড। 

ইলেক্ট্রনিক টাইমিং আর হ্যান্ড টাইমিংয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। সারা দুনিয়ায় ইলেক্ট্রনিক টাইমিং ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে এই সিস্টেমটা প্রচলিত না। এবার নতুন করে সিস্টেম স্থাপন করা হলেও পুরোপুরি বাবে কাজ করেনি। খেলার আগে ট্রায়াল করা হয়েছিল। তখন নাকি ভালো কাজ করেছিল। গতকালই চূড়ান্ত ট্রায়াল হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। নতুন ট্র্যাক, নতুন ইলেক্ট্রনিক টাইমিং, নিজেকে দেখলেন ইমরানুর রহমান। 

একদিকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের নতুন ট্র্যাক, অন্যদিকে নতুন টাইমিং সিস্টেম। নতুন পরিবেশে দৌড়ে ভালোই লেগেছে ইমরানুরের। দৌড় শেষ করে এসব কথা বলছিলেন লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর। বলছিলেন দুই দিন আগে ঢাকায় এসে আর্মি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন তিনি। এখন আর লন্ডন যাবেন না। ১৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যাবেন। সেখানে খেলা রয়েছে। অপেক্ষায় আছেন প্যারিস অলিম্পিকের।’

তড়িঘড়ি করে শেষ করা হচ্ছে

দেশের সবচেয়ে বড় অ্যাথলেটিকস, জাতীয় আসর। অথচ এই খেলাটি হয় মাত্র দুদিনের জন্য। আগে এটা তিন-চার দিনের জন্য হতো। এখন নামকাওয়াস্তে আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এটা নিয়ে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানিয়েছেন এটি আসলেই আরও বেশি সময় নিয়ে হওয়া উচিত।’ সামনে উনি দেখবেন যেন এতো স্বল্প সময়ের জন্য না হয়।

অব্যবস্থাপনা ছিল

ইমরানুর রহমান এবং শিরিন আক্তার তাদের ইভেন্ট শেষ করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ভোগান্তির শিকার হন। ইভেন্ট পরিচালনায় অযথা মাইক বাজাতে গিয়ে উচ্চ শব্দে ক্রীড়াবিদ সংবাদ মাধ্যম বিরক্ত হন। ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। বার বার অনুরোধ করার পরও মাইক বন্ধ করা হয়নি। বিষয়টি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেছেন, কারা ওখানে কাজ করছেন। কোনো প্রশিক্ষণ নেই। কিভাবে কাজ করে। আমি বলছি আগামীতে এসব বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। পাশে থাকা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেন, ‘ওনারা (সাংবাদিকরা) তো এখানে কাজ করতে এসেছেন। তাদের সহযোগিতা করা উচিত ছিল। এসব দায়িত্ব পালন করা মানুষকে ট্রেনিং দেওয়া উচিত।’

অগ্নিকাণ্ড হতে বেঁচে গেল নতুন ট্র্যাক

নতুন ট্র্যাকে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধন করতে গিয়ে মশাল প্রজ্জলন করা হবে। চ্যাম্পিয়নশিপের মার্চপাষ্টের পর মশাল প্রজ্বলন করা হবে। মশাল দৌড় অংশ নেন সাবেক দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি এবং সাবেক তারকা পোলভোল্টার শরিফুল ইসলাম। কিন্তু মাঝ পথে মশাল দৌড়ের মধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। আগুন মশালের হাতলে নেমে আসে। এতো বেশি গরম হয়ে যায় যেটা হাতে রাখা সম্ভব ছিল না। দুর্ঘটনার শঙ্কায় মশাল হাত থেকে ফেলে দেন দুই সাবেক অ্যাথলেট। জ্বলন্ত আগুন পড়ে ট্র্যারে উপরে।

পরিস্থিতি বুঝে কয়েকজন বিচারক দ্রুত পায়ে এসে পা দিয়ে জ্বলন্ত আগুন ট্র্যাক থেকে সরিয়ে ঘাসের মাঠে ফেলেন। সেখানেও ঘাস পুড়ে যায়। পানি ঢেলে আগুন নেভানো হয়। অনুষ্ঠান সাজাতে গিয়ে ছবি লাগানো হয়েছে। ৫টা ছবি দ্রুততম মানব ইমরানুরের। যেখানে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু রয়েছেন। অথচ দেশের অনেক সাবেক তারকা ছিলেন তাদের ছবি দিয়ে সাজানো যেতো। যারা দেশের অ্যাথলেটিকসে পদক এনে দিয়েছিলেন। সাফ গেমসে পদক আছে সেই সব ক্রীড়াবিদের কোনো জায়গা নেই বর্তমান ফেডারেশনের পরিকল্পনায়। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ