বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও কমেনি ‘হরেক মালের’ কদর  

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৯

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সংসার চালাতে হরেক রকমের মাল বেচে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুদের কাছে কানের দুল, গলার চেইন, চুড়ি, চিরুনি, চুল বাঁধার ফিতা, ক্লিপ, মাথার ব্যান্ড ও নখের নেইলপলিশের বেশ চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, শহরের দোকানগুলোর চাইতে হরেক মাল বিক্রেতাদের পণ্যসামগ্রীর দাম কম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বারুহাস ইউনিয়নের রানীদিঘী গ্রামের হিন্দু পাড়ার কয়েকজন গৃহবধূ হরেক মালের দোকান থেকে কানের দুল ও চুড়ি, মালা কিনছেন। মাকড়শন গ্রামের সড়কের পাশে আরেক শিশুকে চুলের ক্লিপ কিনতে দেখা যায়।

রানীদিঘী হিন্দু পাড়ার গৃহবধূ দিপালী, সুন্দরী, লক্ষী ও কামাড়শন গ্রামের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুন বলেন, আমরা শহরে কেনাকটা করতে যাই না। ওসব দোকানের জিনিসের দাম বেশি। সাধারণত হরেক মালের বিক্রেতারা বাড়ির কাছে যখন আসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেই। শহরের দোকানে যাওয়া-আসায় যে টাকা পরিবহন খরচ হয়, সে টাকা দিয়ে ঘরে বসেই হরেক রকমের মাল কেনা যায়। 

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ২৪ জন ব্যবসায়ী তাড়াশে হরেক মাল বিক্রি করেন। এসব ব্যবসায়ীরা বগুড়া ও উল্লাপাড়া শহর থেকে হরেক পদের সামগ্রী পাইকারি দরে কিনে আনেন। পরে প্রত্যন্ত গ্রামে-গ্রামে ঘুরে খুচরা দামে বিক্রি করেন। 

হরেক মালের ব্যবসায়ী মানিক প্রামাণিক, খয়ার হোসেন ও আব্দুল কাদের বলেন, এক যুগেরও অধিক সময় ধরে তাড়াশে থেকে ব্যবসা করছেন তারা। হরেক পদের জিনিস বেচে তাদের মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। এতে তাদের সংসার খরচ মিটে যায়। 

বিক্রেতারা পলিথিনের মধ্যে হরেক রকমের পণ্য সেফটিপিন দিয়ে আটকে কাঁধে নিয়ে পায়ে হেঁটে চলে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। ছোটো মাইকে তাদের হাঁক-ডাকে শোনা যায়, ‘মা-বোনদের কার লাগবে কানের দুল, গলার চেইন, হাতের চুড়ি, মাথা আঁচড়ানো চিরুনি, চুল বাঁধা ফিতা, চুলের ক্লিপ, মাথার ব্যান ও নখের নেইলপলিশ। আমার কাছে চলে আসুন। রাখবেন হরেক মাল।’

তাড়াশ পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর ও নারীনেত্রী প্রভাষক রোখসানা খাতুন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু হরেক মালের কদর কমেনি। গ্রামীণ জীবনে হরেক মালের কদর আগেও ছিল, এখনও রয়েছে।


 

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও