বিশেষ বৈঠক ডেকেছে সংসদীয় কমিটি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তিনটি ভবনে অনিয়ম পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এরমধ্যে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ভবনের বেজমেন্ট গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য লিজ নিয়ে সেখানে গুদাম ও কম্বল তৈরির কারখানা নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ট্রাস্টের জমিতে ‘টাওয়ার-৭১’ ও ‘জয় বাংলা বাণিজ্যিক ভবন’-এর নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ করতে পারেনি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। এজন্য সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলেও সেই অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। এনিয়ে গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
তিনটি ভবনের বিষয়ে সংসদীয় কমিটি আগামী রবিবার বিশেষ বৈঠক ডেকেছে। গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ভবনের গাড়ি পার্কিংয়ের ইজারাদার এবং ভবন দুইটির ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে ডেকেছে কমিটি। বৈঠকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের জায়গা ব্যবহারকারীদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের ভবন দুইটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানা দেওয়ার কথা; কিন্তু তারা ভবনও হস্তান্তর করছে না, জরিমানার টাকাও দিচ্ছে না। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের অনাদায়ী বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে। গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্টের লিজ বাতিল করে সেখানে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের পেছনের জায়গা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের ওই ভবনের ইজারা ১২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। চট্টগ্রামের ‘টাওয়ার-৭১’ ভবনের কাজ ২০১৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন সময়ে জরিমানা করাসহ প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যদিও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মদিনা ডেভেলপার এখনো ভবন বুঝিয়ে দেয়নি। ৩ দফা চিঠি দেওয়ার পরও জরিমানার ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে, আগ্রাবাদের ‘জয় বাংলা বাণিজ্যিক ভবন’-এর কাজ দেরি হওয়ায় গত জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। ওডিএল-এমআরএম-ইসি-জেভি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ২৫ টাকা জরিমানা করা হলেও তারা দেয়নি। শাহাজান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মইন উদ্দীন খান বাদল, রাজি উদ্দিন আহমেদ, কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল অংশ নেন।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ
মিনার নির্মাণের সুপারিশ
এদিকে, গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণের সুপারিশ করেছে। এজন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য—চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, ফজলে হোসেন বাদশা, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান অংশ নেন।
