ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির মামলায় মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। গতকাল বুধবার বিকালে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ্ আলম জানান, যৌন হয়রানির মামলায় আদ্যপান্ত তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ২৯ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত নুসরাত জাহান রাফী ও তার মা শিরিনা আক্তার গত ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজকে ঐ দিনই গ্রেফতার করে। মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।
মাদ্রাসার দপ্তরির জেরা শেষ :এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মাদ্রাসার দপ্তরির জেরা গতকাল শেষ হয়েছে। ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এই হত্যা মামলায় চতুর্থ সাক্ষী দপ্তরি নুরুল আমিনকে আসামিপক্ষের ১৬ জন আইনজীবী জেরা করেন। জেরা শেষে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার অপর সাক্ষী নৈশপ্রহরী মোহাম্মদ মোস্তফার জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণের আদেশ দিয়ে বিচারকাজ মুলতবি করেন। এ সময় আদালতে চার্জশিটভুক্ত ১৬ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানির মামলা করায় চলতি বছরের ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের বড়ো ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
