সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নাটোরের অ্যাম্বুলেন্স চালকের মৃত্যু বাঘা যুব মহিলা লীগ নেত্রীর বাসায়!

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৯

রাজশাহীর বাঘায় ধর্ম বোন পরিচয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর বাড়িতে বেড়াতে এসে নাটোর সদর হাসপাতালের ড্রাইভার সিদ্দিক হোসেনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়। তবে এই মৃত্যুর পর লাশের পাশে বোনের উপস্থিত না থাকা এবং পরদিন শোকাহত পরিবারের কাছে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 

মৃত সিদ্দিক হোসেন চারঘাট উপজেলার শিবপুর গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শরীফা খাতুন বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগ সভানেত্রী।

জানা যায়, নাটোর সদর হাসপাতালে কর্মরত ড্রাইভার সিদ্দিক হোসেন (৫৪) একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নাটোর থেকে রোগী নিয়ে রামেক হাসপাতালে নামিয়ে দেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উল্টাপথে বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগ সভানেত্রী শরীফা খাতুনের বাড়িতে আসেন। এরপর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীফা খাতুন তাকে নিয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেশমা খাতুন তার মৃত্যু ঘোষণা করলে শরিফা খাতুন সেখান থেকে সটকে পড়েন।
 
বাঘার মাইক্রো ডাইভার তারেক হাসান বলেন, সিদ্দিক হোসেন আমার পূর্ব পরিচিত। অসুস্থতার কথা বলে আমাকে ফোন করে চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শরীফার বাড়িতে যেতে বলে। সেখান থেকে আমি তার ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সে শরিফাসহ বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। এ সময় দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, শরিফা খাতুনের বাড়িতে বহিরাগত লোকজনের যাতায়াত রয়েছে। এই ড্রাইভার এর আগেও অনেকবার তার বাড়িতে এসেছে। মৃত্যুর খবর পেয়ে কৌশলে শরিফা খাতুন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাইনি। তিনি যদি ড্রাইভার মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করতেন, তাহলে কোন প্রশ্ন উঠতো না। 

তবে শরিফা খাতুন দাবি করেছেন, ঐ ড্রাইভার আমার ধর্ম ভাই। এ সূত্রে মাঝে মধ্যে তিনি আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের তিনি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আমার বাড়িতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টিএইচও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের মৃত্যুর খবর পেয়ে নাটোর সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, তার স্ত্রী ও ছেলে এসে লাশ নিয়ে গেছে। তারা কোনো অভিযোগ করেনি। তবে জানতে পেরেছি, ঐ ড্রাইভার নাটোর থেকে রোগীকে রামেক হাসপাতালে নামিয়ে কর্মস্থালে ফিরে না গিয়ে উল্টো পথে বাঘায় প্রবেশ করেন। 

বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বাঘা হাসপাতালের টিএইসও আমাদের মৌখিকভাবে অবগত করেছেন। কিন্তু কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও