সাইফুদ্দিনের টার্গেট বিশ্বকাপ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:৩৪

শ্রীলঙ্কা সিরিজে না থাকলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে টার্গেট করে নিজেকে প্রস্তুত করছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ইনজুরি থেকে ফিরে বিপিএলের শেষ তিন ম্যাচে দাপুটে পারফর্ম করেছেন এই পেস অলরাউন্ডার। বল হাতে তিন ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছেন এবং ব্যাট হাতেও বাইশ গজে তুলেছিলেন ঝড়। গতকাল চট্টগ্রামে ফরচুন বরিশালের হয়ে অনুশীলন শেষে সাইফুদ্দিন বলেন, এখনো অনেক কিছু প্রমাণ করার বাকি আছে। এক-দুইটা ম্যাচ দেখে খুশি হওয়ার কোনো কারণ নাই। আরও যদি সুযোগ পাই আরও বড় দলের সঙ্গে যদি করতে পারি তখন হয়তো বুঝব কতটা উন্নতি হয়েছে।’

জাতীয় দলের হয়ে সাইফুদ্দিন সবশেষ ওয়ানডে খেলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে। যদিও ফর্মে না থাকার জন্য কখনো তিনি বাদ পড়েননি। কিন্তু ইনজুরি তাকে বারবারই দলের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। যেমনটি গেল বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ। তবে প্রতি বারই দাপটের সঙ্গে ফিরেছেন সাইফুদ্দিন। সামনের বিশ্বকাপের আগে শক্তি সঞ্চয় করে দলে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই অলরাউন্ডার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুযোগ না পেলেও তার কোনো আক্ষেপ নেই। সাইফুদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি ইনজুরি থেকে উঠে এসেছি। তাই হয়তো শ্রীলঙ্কা সিরিজে পরিকল্পনায় রাখে নাই। আমি আশাবাদী যদি আরও ভালো খেলি যেহেতু শ্রীলঙ্কা সিরিজ মিস হয়েছে, সামনে বিশ্বকাপের আগে যে সিরিজ থাকবে সেখানে হয়তো বিবেচনা করবে। সেই লক্ষ্যে আমি আমার সেরাটা দিয়ে অনুশীলন করার চেষ্টা করব, নির্বাচকদের নজরে আসার চেষ্টা করব।’

সাইফুদ্দিন জানালেন, কয়েক মাস ধরে ব্যাটিং নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণে কাজ করেছেন তিনি। কোচ সালাহউদ্দিন ও বাবুলের সঙ্গে কাজ করেছেন। মেশিনে ব্যাটিং করেছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন তার সেরাটা দেওয়ার। যেহেতু বোলিং করা নিষেধ ছিল তাই ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছেন। আর সেটারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিপিএলে। এ সময় দলের সিনিয়র মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওপর অগাধ আস্থা সাইফুদ্দিনের। বলেন, ‘ভাইকে তো সবসময় আমরা চোখের সামনে দেখি। আমরা সতীর্থ, উনি কি কাজ করছে বাইরের কোনো কিছুতে কান না দিয়ে উনি উনার প্রসেস অনুযায়ী নিজের কাজটা করছে। তো এই জিনিসটা আমরা ফলো করি। আসলে আমাদের প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের উচিত—বাইরে কি হচ্ছে না হচ্ছে এসবে ফোকাস না করে মাঠে খেলাটা দিয়ে যাওয়া। যে কাজটা আমরা রিয়াদ ভাইকে দেখেছি বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিয়েছে। বিপিএলেও উনি চোখে লাগার মতো কয়েকটা ইনিংস খেলেছে। অনুপ্রেরণা এটাই—ডানে-বামে না তাকিয়ে আমার কাজই হচ্ছে মাঠে পারফর্ম করা।’

সাইফুদ্দিন জানালেন তার হারানোর কিছু নেই, তবে পাওয়ার অনেক কিছু ছিল। তিনি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সবাই যেমন নিজের সেরাটা দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তেমনি তিনিও ঐ চিন্তা ভাবনা নিয়েই মাঠে নেমেছেন। বাংলাদেশ দলে সবচেয়ে বড় অভাব হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার। আমেরিকায় সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই অভাব পূরণ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন সাইফুদ্দিন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ