বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রোববার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:৫৫

কারাবন্দী থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা মুক্তি পাচ্ছেন আগামীকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি)। ১৪ বছরের বেশি সময় স্বেচ্ছোয় নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন। এর মাত্র ছয় মাস পরেই মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদেরকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেরেথা থাভাইসিন বলেছেন, থাকসিনের মুক্তি ১৮ তারিখে হবে। আইন মেনেই সবকিছু পরিচালিত হবে।

এই সপ্তাহের শুরুতে থাকসিনের প্যারোল মঞ্জুর করা হলেও কবে নাগাদ তিনি মুক্তি পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। রোববার তার প্যারোলে যাওয়ার প্রথম দিন।

থাইল্যান্ডের বিচার মন্ত্রী তাউই সোডসং চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, দ্রুত মুক্তি দেওয়া ৯৩০ বন্দীর মধ্যে থাকসিনও (৭৪) রয়েছেন।

২০১৫ সালের একটি মিডিয়া সাক্ষাত্কারে রাজতন্ত্রকে অপমান করায় থাকসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চাইছেন পাবলিক প্রসিকিউটররা। ফলে তাকে এখনো আইনি বাধায় পড়তে হতে পারে।

টেলিকমিউনিকেশন ব্যবসা থেকে উত্থান থাকসিনের। তিনি গত বছরের আগস্টে দেশে ফিরে আসেন। পরে তাকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তার সাজা এক বছর কমিয়েছিলেন। এছাড়াও অজানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি ছয় মাস হাসপাতালে বন্দী ছিলেন।

থাকসিনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও সামরিক সমর্থকদের সঙ্গে তার দল ফেউ থাই পার্টির জোট গঠন কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়। ফলে অনেকেই ধারণা করেছেন, তিনি হয়তো জেলে থাকার একটি চুক্তি করেই দেশে ফিরেছেন।

এই গুজব আরও জোরদার হয় যখন তাকে স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে সাজা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি কারাগারে আদৌ ছিলেন কিনা এটিও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, থাকসিনকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তিনি বুকে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। তার পরিবারের দাবি, পরের মাসেই তার দুটি অপারেশন হয়েছে।

থাকসিনের কনিষ্ঠ কন্যা পায়েংটার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বে ফেউ থাই পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী হন সেরেথা। গত বছরের মে মাসের নির্বাচনের পর দলটি সরকার গঠন করে। তবে নির্বাচনে প্রগতিশীল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি সর্বাধিক ভোটে জিতেছিল। কিন্তু রাজনীতিতে সামরিক ও তথাকথিত এলিটদের প্রভাবের কারণে দলটি সরকার গঠন করতে পারেনি।

২০০১ সালে অবহেলিত গ্রামীণ থাইদের মধ্যে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসেন থাকসিন। নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে থাকসিন যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির ক্ষমতায় আসে সেনাবাহিনী।

ইত্তেফাক/এসএটি