সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ, ঘর-বাড়ি ভাঙচুর

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:৪১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের বড় হামিরদী গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৯টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ভাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, বড় হামিরদী গ্রামের হাবিব সিকদার ও কাইয়ুম তালুকদারের নেতৃত্বে দুটি 'গ্রাম্য দল' পরিচালিত হয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হামিরদী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজারে হাবিব সিকদারের দলের আরজু সিকদারের (৩৫) সঙ্গে কাইয়ুম তালুকদার দলের চনি সিকদারের (২৪) কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় হাবিব সিকদারের পক্ষের হাফিজুল তালুকদারকে পিটিয়ে আহত করে কাইয়ুম তালুকদারের পক্ষের লোকজন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভাঙ্গা থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সময় ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ছবি: ইত্তেফাক

আজ সকালে হাবিব সিকদারের দলের লোকজনের সঙ্গে পুনরায় কাইয়ুম তালুকদারের দলের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কাইয়ুম তালুকদারের পক্ষের মনিরুল শেখ, জিয়াদ শেখ, আইয়ুব শেখ, লিয়াকত আলী, ইজাজুল শিকদার, চনি শিকদার, বাদশা শিকদার ও খোকন শিকদার ও হাবিব সিকদারের পক্ষের আরজু সিকদারের বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাইয়ুম তালুকদারের দলের ইজাজুল শিকদারের স্ত্রী রোকসানা বেগম জানান, তিনদিন আগে সমিতি থেকে চল্লিশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলাম। টাকাটা আমার বালিশের নিচে রাখা ছিল। সেই টাকা সন্ত্রাসীরা ঘর ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। আমার ঘরের ফ্রিজ ও গ্যাসের চুলা ভেঙে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামে আগে থেকেই দুটি দল রয়েছে। চায়ের দোকানে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে প্রথমে মারামারি হয়। শনিবার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। শনিবার সকালে কয়েকটি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা আজ বিকাল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসকে