বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আমি জানতামই না সেরা খেলোয়াড় হয়েছি: সাগরিকা 

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৯

বাফুফে ভবনের আঙ্গিনায় সবুজ ঘাসের ওপর দুপুরের পর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের যুগ্মচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে ট্রফি তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠান। সবাইকে লাল কার্পেট বিছিয়ে ব্যাকড্রপ স্থাপন করা হয়েছে। ভবনের তিন তলায় নারী ফুটবলারদের ক্যাম্প। বারান্দায় এসে খেলোয়াড়রা বারবার নিচে তাকিয়ে দেখে যাচ্ছিলেন তাদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত। তখনো সাগরিকা জানতেন না সাফের সেরা খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন তিনি। পুরস্কার হাতে পেয়ে চমকে গিয়েছেন স্ট্রাইকার সাগরিকা। এক সঙ্গে দুটো পুরস্কার পেয়েছেন ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈলের মেয়ে সাগরিকা। 

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বচ্চো গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। একসঙ্গে দুটো ট্রফি, হাতে নেওয়ার শক্তি নেই যেন, চোখে মুখে হাসির ঝিলিক, উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়ছিল। জীবনে এত বড় দুটি পুরস্কার হাতে পাননি। আবেগটা ফুটে উঠছিল সাগরিকার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন এবারের সাফে। ভারতের বিপক্ষে দুই বারই গোল করেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শেষক্ষণে গোল করে জিতিয়েছিলেন সাগরিকা, ফাইনাল ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ, শেষ ক্ষণে আবার সেই সাগরিকার গোলে হার বাঁচায়। 

ফাইনাল টাইব্রেকিংয়ে গেলে সেখানেও ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি। স্পটকিকে সবাই গোল করেছিলেন। সাডেন ডেথে গিয়েও সবাই গোল করেন। কিন্তু ফাইনালে  শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনার গিয়ে চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণে টস করতে বলেন নেপালি রেফারিকে। টসে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। টসের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়ে সাফ কর্তৃপক্ষ, এটি নিয়মের বাইরে, তাই ভারতকে ডেকে নতুন করে সিদ্ধান্ত দিতে চাইলে মানতে রাজি না ভারত। দুই আড়াই ঘণ্টার পর বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে যুগ্ম-চ্যাম্পিয়ন মেনে নেয় ভারত। আসল ট্রফি ভারতকে দেওয়া হয়, আর নতুন একটি ট্রফি বানিয়ে সেটি গতকাল তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশ দলের হাতে।

সবচেয়ে আনন্দের চিত্রটা ছিল বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার সাগরিকা। তার হাতে এক সঙ্গে দুই ট্রফি। সংবাদ মাধ্যমও সাগরিকাকে নিয়ে আগ্রহী, ‘আমি জানতামই না। দুটো পুরস্কার পেতে যাচ্ছি। এখন শুনলাম আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছি, বললেন সাগরিকা। ভারতের বিপক্ষে দুইবার মুখোমুখি বাংলাদেশ, সাগরিকা দুইবার গোল করেন, নেপালের বিপক্ষে আছে জোড়া গোল। চার গোল করে সর্বচ্চো গোলদাতা হয়েছেন তিনি। তার স্পিড স্টেপিং নজরকাড়া। আগামীতে জাতীয় দলে ঢুকবেন, এমনটা এখনই অনুমান করা যায়।

জাতীয় দলে সাবিনা খাতুন রয়েছেন। ভবিষ্যতে সাবিনার জায়গায় খেলবেন, সাগরিকা। বললেন, ‘উনি আমার বড়, সিনিয়র ফুটবলার। তার জায়গায় খেলাটা কঠিন। সাবিনা আপু অনেক দিন ধরে খেলছেন। আমার অনেক সিনিয়র। আমি চেষ্টা করব।’

১০ দিন আগে ফাইনাল হয়েছে। এখন নিজেদের আঙ্গিনায় পুরস্কার তুলে দেওয়া হলো, অথচ এই আয়োজনটি আরো গোছাল হতে পারত। সাউন্ডসিস্টেম নেই, সাফের কর্মকর্তারাও এসে দেখলেন ছোট্ট একটি আয়োজনে বাফুফের লোকজনকে হিমশিম খেতে হয় কীভাবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন