তাড়াশে মজুরি বৈষম্যের শিকার আদিবাসী কৃষি শ্রমিক

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৪

সিরাজগঞ্জে আদিবাসী অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তারা বরাবরই মজুরি বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেতে নারী, পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীরা সমান শ্রম দিয়েও আলাদা মজুরি পান। পুরুষ শ্রমিকরা বেশি টাকা নেন, সবচেয়ে কম টাকা পায় কিশোর-কিশোরীরা।

এ ব্যাপারে গুড়পিপুল গ্রামের কৃষি শ্রমিক নিরেষ ওরাওঁ বলেন, 'আমার স্ত্রী প্রমিলা ওরাওঁ, মেয়ে মিতু ওরাওঁ একসঙ্গে মাঠে কাজ করি। সবকাজেই একই রকম পরিশ্রম হয়। কিন্তু কাজের শেষে আমি পাই ৩৭০ টাকা, আমার স্ত্রী পান ৩৫০ টাকা আর মেয়ে পায় ২৫০ টাকা।' 

একই গ্রামের আদিবাসী কৃষি শ্রমিক কল্পনা ওরাওঁ, ভারতি ওরাওঁ, বাসন্তি ওরাওঁ, আরতি ওরাওঁ, অন্তরা ওরাওঁ, জয়ন্তী ওরাওঁ, মালতি ওরাওঁ, গীতা টপ্য, রাত্রী টপ্য, ধাত্রী টপ্য, যুগেস ওরাওঁ, রমনাথ ওরাওঁ ও জয়ন্ত এক্কা বলেন, তারা শ্রমিক হিসেবে এখন বোরো ক্ষেত পরিচর্যার কাজ করছেন। ক্ষেতের মালিকরা ছেলেদের দেন ৩৭০ টাকা। মেয়েদের দেন ৩৫০ টাকা ও উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের দেন ২৫০ টাকা করে। অথচ সবাই সমান কাজ করেন।

এই আদিবাসী কৃষি শ্রমিক দলের কল্পনা ওরাওঁ বলেন, আমি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। পাশাপাশি বাবা-মার সাথে মজুরের কাজ করছি।

ধাত্রী টপ্য বলেন, আমি বিএ পড়ছি, মাঠেও কাজ করছি। বিশেষ করে আমরা পড়ালেখার পাশাপাশি বাবা-মার সাথে মাঠের কাজ শিখেই বড় হয়েছি। বাবা-মার বয়স হয়ে গেছে। এখন আমরাই বেশি কাজ করি। কিন্তু মজুরি কম।

এমন অভিযোগের ব্যাপারে গুড়পিপুল গ্রামের বোরো ক্ষেতের মালিক নজরুল ইসলাম, খায়রুল হাসান ও মোহাম্মাদ আলী বলেন, আদিবাসী কৃষি শ্রমিকদের বয়সভেদে মজুরি দেওয়া হয়। এভাবেই বহু বছর ধরে চলে আসছে।

এদিকে উপজেলা ওরাওঁ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলায় ২৩ হাজার আদিবাসী বসবাস করেন। জাতিগতভাবে তারা কঠোর পরিশ্রমী। কিন্তু তারা অধিকাংশই ভূমিহীন ও কৃষি শ্রমিক। মাঠের কাজ না পেলে তারা ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বিন্যার ফুল ঝাড়ু,  খেজুর পাতার পাটি, তালপাতার পাটি ও বাঁশের ঝাঁটা তৈরি করে হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। বর্ষায় মাছ ধরে ও শালুক কুড়িয়ে বিক্রি করেন। বিশেষ করে মাঠে কাজ না থাকলে তারা খালে-বিলে কাকড়া ও শামুক, ঝিনুক ধরে পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটান।

উপজেলা ওরাওঁ ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ বাঁরো বলেন, আদিবাসীরা বংশ পরম্পরায় কুটির শিল্পের নানা রকম জিনিস তৈরিতে পারদর্শী। কিন্তু তাদের এ পেশা বিলুপ্তপ্রায়। তিনি তাদের জন্য সরকারিভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও মূলধন হিসেবে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তার দাবি জানান।
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খালিদ হাসান ইত্তেফাককে বলেন, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অফিসের মাধ্যমে আদিবাসীদের কুটির শিল্পে প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ পেলে তারা আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে পারবেন।

ইত্তেফাক/একেএম/এআই