সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি, সাঁকোতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৮

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গুমানী নদীতে একটি সেতুর অভাবে নদীর দুই পাশের স্থানীয় লোকজন শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ও বর্ষাকালে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করতে হচ্ছে। এ জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে গুমানী নদীর এপার ধামাইজ বাজার খেয়াঘাট থেকে ওপার হেমনগর পর্যন্ত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আব্দুর রহিম, কোবাদ আলী, ইব্রাহিম হোসেন, রওশন উদ্দীন, জামেলা খাতুন, আয়শা খাতুন, ফুলজান ও খালেদাসহ নদীর দুই পাড়ের গ্রামের অনেকে বলেন, তাদের জন্মের পর থেকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। মাঝে মধ্যে নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে, সাঁকোর দুই পাশে হাত দিয়ে ধরার মত রেলিং না থাকায় কখনো কখনো সাঁকোর নিচে পড়ে যান তারা।


 
এদিকে শিক্ষার্থী রাতুল হাসান, সিয়াম, ইসরাফিল, রাকিবুল, ঝর্ণা, রিচি ও রায়তা বলেন, নদীর এপার-ওপারে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে সবুজ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ধামাইচ বিলচলন উচ্চ বিদ্যালয়, নওখাদা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা অন্যতম। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজারো ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করেন। প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয় সবার। বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে-যেতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে, বন্যার সময় খেয়াঘাটে নৌকা আসতে দেরি হয়। তখন সময় মত বিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায় না।
 
 স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকজন আরও বলেন, নদীর উত্তরের পাড়ের গ্রামগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বোরো ধান ও রবিশস্য উৎপাদন করেন স্থানীয় কৃষকরা। নদীতে সেতু না থাকায় ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটের বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী লোকজন। সেতুর দুই পাশে কোনো রেলিং নাই।

জানা গেছে, গুমানী নদীর ধামাইচ খেয়াঘাটের দুই পাশে ধামাইচ গ্রাম, ইশ্বরপুর, হেমনগর, নওখাদা, বিন্নাবাড়ি, চরকুশাবাড়ি, দবিরগঞ্জ, রানী গ্রাম, কাটাবাড়ি, বাহাদুর পাড়াসহ কমপক্ষে ২০ টিরও বেশি গ্রামে প্রায় লাখো মানুষ বসবাস করেন। 

স্থানীয় সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার লোকজনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সেতুর অভাবে জীবনমান উন্নয়নেও পিছিয়ে রয়েছেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে প্রাক্কলিত প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে গুমানী নদীর ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/পিও