মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের মানবাধিকার লংঘন করে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের এক তদন্ত কর্মকর্তা। মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি এ অভিযোগ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে এখনো জাতিগত বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত আছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি প্রদেশ দুটির বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে। সম্প্রতি এই প্রদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার সরকার। ইন্টারনেট বন্ধ করে মিয়ানমার সেনারা নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে বলে কয়েকদিন আগেই অভিযোগ করেন ইয়াংহি লি।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে রাখাইন প্রদেশের উত্তরে ও দক্ষিণাঞ্চলীয় চিন প্রদেশের একাংশে আরাকান আর্মির সঙ্গে (সেনাবাহিনীর) যে সংঘর্ষ চলছে, তা বেসামরিকদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। দুই পক্ষের অনেক কর্মকাণ্ড মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে; মানবাধিকার লংঘনের পাশাপাশি সম্ভবত এগুলো যুদ্ধাপরাধের মাত্রাও ছুঁয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩৫ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে।
যদিও জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন বলেছেন, তার দেশের সরকার অগাস্ট পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এবং সংকট সমাধানে চেষ্টা করছে।
